ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে মরচুয়ারি কুলার (মরহেদ রাখার ফ্রিজ) নিয়ে দুর্ভোগ বহুদিনের। এ নিয়ে সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউনে একটি বিশেষ প্রতিবেদনও প্রকাশ হয়েছে। তবে মরদেহ সংরক্ষণের এ দুর্ভোগে কিছুটা হলেও কাটছে এবার। ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রসের (আইসিআরসি) পক্ষ থেকে একটি মরচুয়ারি কুলার দেওয়া হয়েছে ঢামেককে, সরকারের পক্ষ থেকেও আরেকটি দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। এ দুটি মরচুয়ারি কুলার চালু হলে দুর্ভোগ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢামেক ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. মোহাম্মদ মাকসুদ আজ শনিবার (৭ আগস্ট) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আইসিআরসি’র পক্ষ থেকে দেওয়া মরচুয়ারিটিতে ৪০টি মরদেহ রাখা যাবে। ফ্রিজটি এরই মধ্যে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে চলে এসেছে। বর্তমানে মর্গের সামনে ফ্রিজটি রাখা হয়েছে। এটি রাখার স্থাপনার নির্মাণ কাজ শেষ হলে শিগগিরই তার চালু করা হবে।
তিনি জানান, এরপর সরকারের পক্ষ থেকে আরেকটি মরচুয়ারি আসছে, সেটিও প্রক্রিয়াধীন। সেটি আসার পর আমাদের মরদেহ রাখার আর কোনও সমস্যা থাকবে না বলেই মনে করছি। দীর্ঘদিনের এ সমস্যা দূর হবে।
ঢামেকের মর্গ সহকারী সেকান্দর আলী জানান, অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ প্রথমে ফ্রিজিং-এ রাখা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট থানাকে জানালে তারা সুরতহাল করে। এরপর ময়নাতদন্ত করেন ফরেনসিক চিকিৎসকরা। আবার যে মরদেহের পরিচয় পাওয়া যায় না, সেগুলো ফ্রিজিং করতে হয় অনেকদিন। এখন যে ধারণক্ষমতার মরচুয়ারি আছে তা নিয়ে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।
তিনি জানান, এখানে এখন সবমিলিয়ে পাঁচটি মরচুয়ারি কুলার চালু রয়েছে। একটিতে পাঁচটি করে ২০টি মরদেহ রাখা যায়। পাঁচটির মধ্যে একটি আবার বিকল। নতুন পুরাতন সব কয়টি চালু হয়ে গেলে মরদেহ রাখা যে সমস্যা, তা আর থাকবে না বলেও মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
মরদেহ সংরক্ষণে দুর্ভোগে ঢামেক