নারীর বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দাবি

গণমাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশন, শব্দ চয়ন এবং ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করার দাবি জানিয়েছে নারীদের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্ল্যাটফর্ম ‘স্ফুলিঙ্গ’। শনিবার (২৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবে জহুর হোসেন চৌধুরী হলরুমে ‘নারীর বিরুদ্ধে মোরাল পুলিশিং, গণমাধ্যমের অসংবেদনশীলতা এবং আইন ও বিচার বিভাগে পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে আমরা’ শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠকে এই দাবি জানায় তারা।

স্ফুলিঙ্গ জানায়, বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে যে- নারীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোরাল পুলিশিং এবং গণমাধ্যমে নারীর ব্যক্তিগত জীবনকে উন্মুক্ত করে কেলেঙ্কারিকরণের সংবাদ প্রচার করে সমাজের প্রচলিত পুরুষতান্ত্রিক জনমতকে প্রতিষ্ঠিত করা হয় এবং তাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালীদের অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়। এর পাশাপাশি বিচারবিভাগের বিশেষ ক্ষমতাশীল গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক আইনের অপব্যবহার করে নারীদের নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করার বিষয়টি প্রায়শই পরিলক্ষিত হচ্ছে। স্ফুলিঙ্গ মনে করে, একটি রাষ্ট্র এবং তার প্রতিষ্ঠানসমূহের দীর্ঘদিনের অগণতান্ত্রিক এবং পুরুষতান্ত্রিক চর্চাই নারীর বিরুদ্ধে এই অন্যায্যতা তৈরি করছে।

বৈঠক চলাকালীন অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সানজিদা নীরা জানান , গণমাধ্যম এবং বিজ্ঞাপনগুলো তাদের কাটতি বাড়াতে নারীদের নিয়ে এই ধরণের অসংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশন করে। নারীকে এভাবে উপস্থাপন না করেও যে গণমাধ্যম চলতে পারে এই ধারণায় আসতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য রাখেন  আলোকচিত্রী এবং বাংলাদেশ সাম্যবাদী আন্দোলনের সদস্য জান্নাতুল মাওয়া বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য লুনা নুর আইনজীবী সুলতানা আক্তার রুবি।

গোলটেবিল বৈঠকে নারীর বিরুদ্ধে মোরাল পুলিশিং, গণমাধ্যমের অসংবেদনশীলতা এবং আইন ও বিচার বিভাগে পক্ষপাতিত্বের বিরুদ্ধে স্ফুলিঙ্গের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে-  গণমাধ্যমকে মুক্ত এবং স্বাধীন করতে হবে, আইনের অপব্যবহার করে নাগরিকের ব্যক্তি-পরিসরে ঢুকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কর্তৃক নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করা বন্ধ করতে হবে, প্রতিটি গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নারীর বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল আচরণ, শব্দ চয়ন এবং ছবি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, গণমাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে অসংবেদনশীল সংবাদ পরিবেশন, শব্দ চয়ন এবং ছবি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে,  প্রতিটি সাংবাদিক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের উল্লেখিত নীতিমালা বিষয়ে অবগত করতে হবে এবং জেন্ডার সংবেদনশীলতার প্রশিক্ষণ দিতে হবে, নারীর বিরুদ্ধে সমাজের প্রচলিত মোরাল পুলিশিং এর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকে সোচ্চার থাকতে হবে,  নারীর সহিংসতা সংক্রান্ত অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে হবে। এসকল অভিযোগে তদন্ত না করে অভিযুক্তকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে না, বিচার বিভাগকে স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে আলোচক হিসেবে যুক্ত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ এবং সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন,বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম, নারী মুক্তি কেন্দ্রের ঢাকা নগরের সভাপতি তাসলিমা বিউটি, বিপ্লবী নারী ফোরাম ঢাকা নগরের সদস্য আমেনা আক্তার, আইনজীবী তাসমিয়াহ নুহাইয়া আল আমিন, কথাসাহিত্যিক নুরন্নবী শান্ত, কবি ও সাংবাদিক রহমান মুফিজ, উন্নয়নকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী। গোলটেবিল বৈঠকের শুরুতেই উল্লেখিত কর্মসূচির অবস্থানপত্র পাঠ করেন স্ফুলিঙ্গের সদস্য পূরবী তালুকদার। বৈঠকটি সঞ্চালনা করে স্ফুলিঙ্গের সদস্য মোশফেকা আরা শিমুল এবং ইশরাত জাহান উর্মি।