বন্ধ মিল বিক্রি করে পরিচালক কারাগারে, স্ত্রীর দাবি ষড়যন্ত্র

নারায়ণগঞ্জের ম্যানচেস্টার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের পরিচালক কারান্তরীণ অ্যাডভোকেট এস এম সানিয়েল আরিফিনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট মার্সেলা সুইটি আরিফিন। সোমবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।  

লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মার্সেলা সুইটি আরিফিন জানান, তার শ্বশুর শিল্পপতি মরহুম আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি নরসিংদীর আটীবাড়ি এলাকায় ম্যানচেস্টার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উদ্যোক্তা। তার ৩৮৬.৯২ শতাংশ জমি এবং ২ লাখ স্কয়ার ফিট ভবন বন্ধক রেখে জনতা ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিস থেকে সাড়ে ১১ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেন তিনি। বর্তমানে তা সুদে-আসলে প্রায় ৪০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের ২২ আগস্ট আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া মারা যাওয়ায় টেক্সটাইল মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। তিনি মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ সূত্রে এর পরিচালক হন এস এম সানিয়েল আরিফিন।

সুইটি আরিফিন বলেন, ‘নরসিংদীর সুইডেন-বাংলা টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের মালিক আতাউর রহমান ওরফে সুইডেন আতাউর আমাদের মিলটি কিনে নেন। তিনি জনতা ব্যাংকের সব ঋণ পরিশোধ এবং অতিরিক্ত ১২ কোটি টাকার নগদ দেবেন বলে মিলটির ওয়ারিশ সূত্রের মালিকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী সুইডেন আতাউর জনতা ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে ২ কোটি টাকা জনতা ব্যাংকে জমা দেন। চুক্তিনামার নির্ধারিত সময় পরও তিনি জনতা ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে কোনও টাকা না দেওয়ায় চুক্তির ৩ নম্বর শর্ত অনুযায়ী বায়নাকৃত ২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত এবং চুক্তিটি বাতিল বলে গণ্য হয়।’

তিনি জানান, ২০১৯ সালের ২ নভেম্বর সোনালী ব্যাংকের দায়ের করা জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলায় সুইডেন আতাউর রহমানকে সিআইডি গ্রেফতার করে। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে জামিনে মুক্তি পেয়ে দেশ থেকে সুইডেনে পালিয়ে যান তিনি। কিছু দিন আগে আতাউর দেশে ফিরে আসেন। গত ১৯ অগাস্ট নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অ্যাডভোকেট এস এম সানিয়েল আরিফিনকে ম্যানচেস্টার কম্পোজিট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে ২ নম্বর আসামি করা হয়। ওই মামলায় তিনি কারাগারে আছেন। এ মামলাকে বিভ্রান্তিকর, কাল্পনিক, ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে এই নারী অভিযোগ বলেন, ‘বর্তমানে অসুস্থ শাশুড়ি এবং নাবালক তিন সন্তান নিয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন তিনি। এ অবস্থায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তার মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’