সরকারের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী বলেন, ইস্যুটি নিয়ে সরকারের ভেতরে ইতোমধ্যেই বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্য-বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষক আন্দোলন নিয়ে নেতিবাচক মত পোষণ করলেও শেষপর্যন্ত তিনি শিক্ষকদের ইস্যুটি ইতিবাচক হিসেবেই নিয়েছেন। শেখ হাসিনা সহনীয় পর্যায়েও আসতে পারেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা বলেন, শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে সরকারের কর্তা-ব্যক্তিদের। প্রধানমন্ত্রী নিজেও তার দুই প্রিয় শিক্ষকের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে কথা বলেছেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী গত ৪ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বেতন-ভাতা বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্য কয়েকজন সচিবদের সঙ্গে কথাও বলেছেন।
নতুন জাতীয় স্কেলে যথাযথ মর্যাদা না দেওয়া ও বাতিলকৃত সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষরা। পাশাপাশি স্বতন্ত্র বেতন স্কেলসহ বেশ কিছু দাবি দাওয়ার বিষয়টি সামনে নিয়ে আসেন। সপ্তম বেতন কাঠামোয় বেসামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে সচিব, সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর জেনারেল এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক সর্বোচ্চ গ্রেডে (গ্রেড-১) ছিলেন। আর জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা গ্রেড-২ এবং অধ্যাপকরা গ্রেড-৩-এ বেতন পেয়ে আসছিলেন। অষ্টম বেতন কাঠামোতে অধ্যাপক ও জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের অবস্থান ঠিক থাকলেও সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপকদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অষ্টম বেতন স্কেল প্রত্যাখ্যান করে তা পুনঃনির্ধারণের দাবি করছেন শিক্ষকরা। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদার ক্রম প্রণয়নে (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স-১৯৮৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের মুখ্যসচিব পদমর্যাদা প্রদান, ক্রম অনুযায়ী সহযোগী, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের বেতন ও পদমর্যাদার ক্রম তৈরির দাবিও উচ্চারিত হয়েছে।
সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এ সরকার যে হারে বিভিন্ন সেক্টরে চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছে, নিকট অতীতের কোনও সরকারের এমন নজির নেই। কিন্তু শিক্ষকদের আন্দোলন সরকারের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগকে ম্লান করে দিয়েছে। বিয়য়টি সরকার ইতোমধ্যেই বুঝতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, একমাত্র শিক্ষকদের আন্দোলন সরকারকে এর সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত করেছে।
সরকারের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, শিক্ষকদের মর্যাদার এ আন্দোলনকে গুরুত্বসহ নিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা। তবে আন্দোলনের তীব্রতার ওপর নির্ভর করছে এর সুফল। শিক্ষকদের মর্যাদার এ আন্দোলন যেন মর্যাদাপূর্ণ থাকে, তা চান সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তা-ব্যক্তিরাও। শুধুই স্বার্থ হাসিলের জন্য এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলার আন্দোলন হলে ভিন্নভাবে দেখা হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে শেষপর্যন্ত বিষয়টি মীমাংসা হবে বলে খবর পাওয়া গেছে।
সূত্র আরও জানায়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়েছে সরকার। আমলারা বিষয়টি গভীরভাবে বিচার-বিশ্লেষণ না করায় শিক্ষক আন্দোলন এ পর্যায়ে গেছে। শেষপর্যন্ত শিক্ষকদের এ আন্দোলনের বেশ কিছু দাবি-দাওয়া সরকারকে মানতে হবে।
সূত্র জানায়, শিক্ষক সমাজের প্রতিপক্ষ হতে চায় না সরকার। শিক্ষক সমাজকে মূল্যায়ন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি এ ইস্যুটিকে গুরুত্বসহ দেখছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ফেডারেশনের নেতা অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের আন্দোলনে যেতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। তিনি বলেন, অন্যদের সুযোগ-সুবিধা বরাবর বাড়বে, আর আমরা আগের অবস্থানে, পজিশনে থাকব, এটা হয় না। আমাদের দাবিটা খুবই সুনির্দিষ্ট। তিনি বলেন, আমরা যেটা চাই, সেটা সরকারের নীতি-নির্ধারকরা হয়ত বুঝতে পারছেন না। তিনি জানান, আমাদের দাবি নিয়ে আন অফিসিয়াল আলোচনা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সময় চেয়েছি। বৈঠক করতে পারলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। ছাড় দেওয়া না দেওয়া প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে ছাড় দেওয়ার কিছু নেই।
/এমএনএইচ/