অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ। আর আবুল হাসনাত এই সাংস্কৃতিক জাগরণের কাজটিই করতেন। আজ দেশের দুঃসময়ে আবুল হাসনাতের বড় প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশের বিশিষ্টজনরা।
শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় জাদুঘরে কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে ‘কালি ও কলম’ আয়োজিত আবুল হাসনাত স্মরণানুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন বিশিষ্টজনরা।
অনুষ্ঠানে আবুল হাসনাতকে নিয়ে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত ‘আবুল হাসনাত স্মারক’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বলেন, কালি ও কলমের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সম্পাদক আবুল হাসনাত (লেখক নাম মাহমুদ আল জামান) ছিলেন একাধারে কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, চিত্র-সমালোচক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রগতিচিন্তার নিরলস বাহক ও সর্বোপরি একজন সফল সম্পাদক। এদেশে শিল্পকলা বিষয়ে মানুষকে উৎসাহী এবং বইপাঠে আগ্রহী ও পাঠরুচি তৈরিতে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০২০ সালের ১ নভেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন। কিন্তু আবুল হাসনাতকে তার প্রাপ্য স্বীকৃতি রাষ্ট্রীয়ভাবে দেওয়া হয়নি।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, সংস্কৃতি ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, কবি ও প্রকাশক তারিক সুজাত, ডা. সারওয়ার আলী এবং আবুল খায়ের লিটু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী।
অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, তরুণ লেখক সৃষ্টিতে উৎসাহ দিতে দৈনিক সংবাদে কাজ করার দিনগুলো থেকেই আবুল হাসনাত ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। শিল্প বা সাহিত্য বিষয়ক যেকোনও তথ্যের প্রয়োজনে আবুল হাসনাতের কাছ থেকে আমি সাহায্য ও দিক নির্দেশনা পেয়েছি।’
রামেন্দু মজুমদার বলেন, দেশে যতই সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠুক, আমরা নিশ্চয়ই হাসনাতের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
তারিক সুজাত বলেন, সাদামাটা হাসনাত ভাই কখনও নিজের কাজ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে গর্ব করতেন না। ছিলেন একান্ত নিভৃতচারী। আবুল হাসানত কিংবদন্তি সম্পাদক। আজ যখন মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর উদযাপন করছি তখন আমাদের মনে রাখতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রথম কবিতা সংকলন তিনিই করেছিলেন। কিন্তু একুশে পদক, স্বাধীনতা পদকসহ কোনও পদক বা সম্মাননা তাকে দেওয়া হয়নি। এতটা অবহেলা তার প্রাপ্য নয়।
ডা. সারওয়ার আলী বলেছেন, হাসনাত ছিলেন আত্মপ্রচারবিমুখ মানুষ। তাই আমরা সকলে তাকে জেনেছি তার মৃত্যুর পর। জেনেছি— তিনি আমাদের কতভাবে ঋণী করে গেছেন। হাসনাত ছিলেন শিল্প-সাহিত্যের জ্ঞানের ভাণ্ডার।’
স্মরণানুষ্ঠানের সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, হাসনাতের কাছে আমার অনেক ঋণ। সংবাদে দীর্ঘ দিন আমি গাছপাথর নামে লিখি, সেটা আবুল হাসনাতের জন্য হয়েছিল। আহসান হাবীবের পর আমরা পাই আবুল হাসনাতকে। এমন সম্পাদক আমরা আর পাইনি।
অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আরও বলেন, আজ বাংলাদেশে প্রয়োজন সাংস্কৃতিক জাগরণ। আবুল হাসনাত এই সাংস্কৃতিক জাগরণের কাজটিই করতেন। আজ দেশের দুঃসময়ে আবুল হাসনাতের বড় প্রয়োজন ছিল।
অনুষ্ঠানে কবি হাসান আরিফ আবুল হাসনাতের কবিতা পাঠ করে শোনান।
সমাপনী বক্তব্যে আবুল হাসনাতের সহধর্মিণী নাসিমুন আরা হক বলেন, হাসনাত বই অনেক ভালোবাসত, পড়তে ভালোবাসত। আর প্রিয় ছিল চিত্রকর্ম। পরিবার, দেশ, জাতির প্রতি হাসনাতের ছিল প্রচণ্ড ডেডিকেশন। সাহিত্য ছিল তার প্রাণের উৎস। কিন্তু তাকে কোনও পদক দেওয়া হয়নি।