গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুর কর্তৃপক্ষ ২৬ জন বাংলাদেশিকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দেশে ফেরত পাঠায়। এর আগে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে বিভিন্ন নির্মাণ কাজে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ২৭ জন বাংলাদেশিকে আটক করে তারা। সে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব আটক বাংলাদেশিকে ২০ থেকে ২৫ দিন আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই দেশের গোয়েন্দারা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন, বাংলাদেশি এসব নাগরিক আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য। তারা সেখানে বসে বাংলাদেশে নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। এরপর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ২৬ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। আরেকজন সেখানকার একটি মারামারির ঘটনায় সাজা ভোগ করছেন। সাজা শেষ হলে তাকেও দেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে সিঙ্গাপুরের বাংলাদেশ দূতাবাসকে জানানো হয়েছে।
দেশে ফেরার পর এই ২৬জনকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের মধ্যে ১২ জনের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনও তথ্যই পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ২১ ডিসেম্বর ১৪ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পূর্ব থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী-২০১৩) ৭, ৮, ৯ ও ১৩ ধারায় এ মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি তদন্তের জন্য ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মামলাটি বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর এজাজ শফি তদন্ত করছেন।
মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে দেওয়া চিঠিতে কারাগারে থাকা ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ১৪ জন হলেন-কুমিল্লার গোলাম জিলানী (২৬), মাহমুদুল হাসান (৩০) ও নুরুল আমিন (২৬), টাঙ্গাইলের আবদুল আলীম (৩৩), আমিনুর (৩১) ও শাহ আলম (২৮), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জাফর ইকবাল (২৭), কুড়িগ্রামের আলম মাহবুব (৩৪), মুন্সীগঞ্জের মোহাম্মদ জসিম (৩৩), চুয়াডাঙ্গার আবদুল আলী (৪০), ঢাকার সাইফুল ইসলাম (৩৬), চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডলার পারভেজ (৩৫), পাবনার আশরাফ আলী (২৭) ও ঝিনাইদহের আকরাম হোসেন (২৭)। যে ১২ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তাদের নাম ওই চিঠিতে তাও উল্লেখ করা হয়নি।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র ও গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের জানান, সিঙ্গাপুর থেকে ফেরত আসা ২৬ বাংলাদেশির সঙ্গে আইএস,আল-কায়দা বা আন্তর্জাতিক কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকার কোনও তথ্য পাননি তারা। তবে, ১৪ জন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানীর ভক্ত ও অনুসারী বলে তারা গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
অন্য ১২ জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনও তথ্য না পাওয়ায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
মনিরুল বলেন, সিঙ্গাপুরের মোস্তাফা সেন্টারের পাশে মসজিদে অ্যাঙ্গোলিয়ায় প্রতি সপ্তাহে মিলিত হতেন তারা। সেখানে তারা মোবাইলের মাধ্যমে মুফতি জসিম উদ্দিন রাহমানী, জাকির নায়েক ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বক্তব্য শুনতেন। তাদের কাছ থেকে রাহমানীর লেখা কিছু বই উদ্ধার করেন সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়া, দেশে ফেরত আসা ২৬ বাংলাদেশির সবার অতীত কর্মকাণ্ডও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
দেশে ফেরত ২৬ বাংলাদেশির বিষয়ে কোনও তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে কি না কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ বেশি ওয়াকিবহাল। পুলিশের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে তিনি পরামর্শ দেন।
/জেইউ/এমএসএম/এমএনএইচ/