মৌলভীবাজারে প্রধান বিচারপতি

রায় লেখার প্রতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির ব্যক্তিগত ইন্টারেস্ট থাকতে পারবে না

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকোনও বিচারপতি অবসরে যাওয়ার পর কোনও পাবলিক ডকুমেন্টে হাত দিতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি বলেন, অবসরে যাওয়ার পর বিচারকের রায় লেখার জন্য কেন ব্যক্তিগত ইন্টারেস্ট থাকবে? এটা কোর্ট দেখবেন। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১০টায় মৌলভীবাজার পৌর জনমিলন কেন্দ্রে জেলা আইনজীবী সমিতির নৈশভোজ অনুষ্ঠানে  তিনি এসব কথা বলেন।
অবসরে যাওয়ার পর বিচারকদের রায় লেখা প্রসঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিচার ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে প্রধান বিচারপতি বলেন, পৃথিবীর কোথাও এটা কল্পনা করা যায় না। আমরা এমন এক আজব দেশে আছি। আমরা বিচারকরা তিন বছর, চার বছর, এখন পাঁচ বছর, সাত বছর উচ্চ আদালতের বিচারক। ছুটি হলে বিদেশ চলে যান। লন্ডন আমেরিকা সরকারি খরচে চলে যান। রায় লেখেন না। তিন বছর, চার বছর আগের রায় লেখেন। তারা লিখতেও পারেন না। এখন বলছেন, পঞ্চম সংশোধনী, অষ্টম সংশোধনী বাতিল হয়ে যাবে। আমাকে যদি রায় লিখতে দেওয়া না হয়, যে বিচারক তিন বছর, পাঁচ বছর আগে রায় লিখতে পারেননি, তাকে আমি আরও পাঁচ বছর কোর্টে দিয়ে দেব।
প্রধান বিচারপতি বলেন, কিছু বিচারক আগে ভুল করেছেন। তারা জানতেন না বা জেনেও প্রধান বিচারপতির কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি নিজেও রায় লিখতে পারেননি। আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে প্রধান বিচারপতিদের, বিচারপতি যারা রয়েছেন, তাদের কাছে আবেদন করব, আপনারা আইন ভঙ্গ করবেন না।  আপনারা যদি আইন ভঙ্গ করেন, তাহলে সাধারণ নাগরিকরা কী করবেন? তিনি বলেন, পঞ্চম সংশোধনী, সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ সম্পূর্ণ সংশোধনী তো ডিকলেয়ার হয়ে গেছে। এটা কোর্টের সিদ্ধান্ত। কে রায় লিখলেন, কে কী লিখলেন, এটা তো আছেই।

আইন পেশা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, আইন পেশা যে মহান পেশা ছিল, পেশাকে আমরা পলিটিক্যাল প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করা আরম্ভ করেছি। আইন পেশাটা কি পলিটিক্যাল প্লাটফরম হওয়া উচিত ছিল? এটা যতই দেখি ততই আমাকে পীড়া দেয়। আমরা কোথায় চলে যাচ্ছি। আমরা যদি পলিটিকস করতে চাই, পলিটিকসের জায়গা তো আছে। এই মহান পেশা তো পলিটিকস করার জন্য নয়।

এসকে সিনহা বলেন, এখানে একটা ভুল নীতি চলে আসছে। আমি এই ভুল করতে দেব না। আমাদের সংশোধিত হতে হবে। আমাদের অনেক ভুল। আমরা অনেক জানি না। আমাদের আইন ও সংবিধান রক্ষা করতে হলে এসবকে সম্মান দেখাতে হবে। তিনি বলেন, এখন আমাদের গণতন্ত্র আছে। সংবিধান চলছে। এখন আমরা আইনে চলব। আমরা কি আবার মার্শাল ল পিরিয়ডের মত চলব? অবশ্যই না। আইনের শাসন বলতে, আইন যে রকম; আইনকে সমুন্নত রাখতে হবে। কোনওমতেই আইন ও সংবিধান পরিপন্থী কোনও কাজ প্রধান বিচারপতি হিসেবে আমি করতে দেব না।

মৌলভীবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল মোছাব্বিরের সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা ও দায়রা জজ মো. সফিকুল ইসলাম, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহির আলী, মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান, প্রধান বিচারিক হাকিম এ কিউ এম নাছির উদ্দিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহ জালাল প্রমুখ।

/এমএনএইচ/