জন্ম থেকেই জোড়া লাগা দুই যমজ শিশু লাবিবা-লামিসাকে পৃথক করতে অস্ত্রোপচার শুরু করেছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল। সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা করছেন তাদের বাবা-মা ও স্বজনরা।
এর আগে ২০১৭ সালের আগস্ট এই হাসপাতালেরই ২২ জন চিকিৎসক প্রায় ৯ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পিঠ থেকে কোমরের নীচ পর্যন্ত জোড়া লাগা ১০ মাস বয়সী যমজ শিশু তোফা ও তহুরার সফল অস্ত্রোপচার করেছিলেন। শিশু সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফ উল হকের (কাজল) নেতৃত্বে এবার প্রায় একই রকম অস্ত্রোপচারে অংশ নিচ্ছেন হাসপাতালের সাতটি বিভাগের প্রায় ৩৫ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
এ নিয়ে গত শনিবার (১১ ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করে ঢামেক কর্তৃপক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. মো. আশরাফ উল হক বলেন, জোড়া শিশু দুটির যখন নয়দিন বয়স, তখন তারা রংপুর মেডিক্যাল থেকে ঢামেকে এসেছিল। তারা প্রায় দেড় মাস এখানে ভর্তি ছিল। এর মধ্যে তাদের পায়ুপথে অস্ত্রোপচার ও পেট দিয়ে মল ত্যাগের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে এতদিন শিশু দুইটির অস্ত্রপচার করা সম্ভব হয়নি।'
গত ২৮ অক্টোবর আবারও শিশু দুটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন তাদের বাবা-মা। এরপর থেকে তাদের অপারেশনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়।
সকালে অপারেশন থিয়েটারের সামনে দেখা যায়, শিশু দু’টির মা মনুফা আক্তার ও ফুপু বসে আছেন অপেক্ষায়। কখন কী খবর আসে, তা জানতে উদগ্রীব তারা। করিডোরে পায়চারী করছেন, তাদের বাবা ও নানা। চোখে মুখে আনন্দ-বেদনার অশ্রু।
শিশু দুটির বাবা নীলফামারীর জেলার জলঢাকা উপজেলার যদুনাথ পাড়া গ্রামের দিনমজুর লাল মিয়া। লাবিবা ও লামিসার আগে তাদের কোনো সন্তান নেই। উৎকণ্ঠিত লাল মিয়া বলেন, তাদের জন্য দোয়া করবেন। তাদের যে আলাদা করার পর সুস্থ অবস্থায় নিয়ে যেতে পারি। আমরা দোয়া করি হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্য।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, আশা করছি খুবই দ্রুত তাদের অস্ত্রোপচার শেষ হবে। আমরা আশাবাদী অপারেশন সফল হবে, আপনারা দোয়া করবেন।