দেশের কাজে বিদেশ ফাউন্ডেশনের একযুগ

দেশের জন্য কাজ করতে চেয়ে প্রবাসী কিছু মানুষ একত্রিত হয়ে গড়ে তুলেছিলেন বিদেশ ফাউন্ডেশন। ১২ বছর ধরে সংস্থাটি কাজ করছে প্রবাসে-দেশে সমানতালে। সাত জনের পরিচালনা বোর্ডের মধ্যে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মীর আলী। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অতীতের লড়াই, বর্তমানের পথচলা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়। তিনি জানান, কীভাবে অক্লান্ত পরিশ্রমে কাজ করেই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করেছেন তারা।

কীভাবে হলো ‘বিদেশ ফাউন্ডেশন’ জানতে প্রবাসী উদ্যোক্তা মীর আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শুরুর সময়ের কথা জানান। বলেন, ‘দেশের জন্য কিছু করার উদ্দেশে ১২ বছর আগে মাত্র ৫ হাজার ডলার নিয়ে যাত্রা শুরু করে বিদেশ ফাউন্ডেশন। ইংরেজি বি বর্ণ আর দেশ মিলিয়ে লোগো হওয়ার কারণে অনেকে বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন মনে করে। তাতেও আমাদের খুব আপত্তি নেই। কারণ, কাজটা মূলত বাংলাদেশ কেন্দ্র করেই।’

সংগঠনটি এরইমধ্যে পরিচিতি পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশে। গ্রামে-গ্রামে সবুজ পল্লি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, মানুষকে স্বনির্ভর করে তুলতে চাওয়া, যার খাবার দরকার তাকে খাবারের জোগান দেওয়া, এমনকি বিদেশের মাটিতেও নানা উদ্যোগের কারণে পরিচিতি পেয়েছি সংগঠনটি। তবে একেবারেই প্রচারবিমুখ হওয়ায় সুপরিচিত হয়ে উঠেছে তা বলা যাবে না। তারা কাজটিকেই প্রাধান্য দিয়েছে। দেশের বেশ কিছু সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করেছে বিদেশ ফাউন্ডেশন।

কেন বিদেশ ফাউন্ডেশন—প্রশ্নে মীর আলী বলেন, আমরা যারা বিদেশে থাকি তারা সবসময়েই দেশের জন্য কিছু করতে চাই। এরকম কয়েকজন মিলে সিদ্ধান্ত নেই একসঙ্গে কাজ করলে বড় ও ভালো কিছু করা সম্ভব। সেখানে থেকেই এই উদ্যোগ। আমাদের ৭ জনের পরিচালনা পরিষদ আছে। আমরা এখানে শ্রম দিয়ে কোনও টাকা নেই না। বরং নিজেরা কাজ করার পাশাপাশি অনুদানও দেই।

উদ্যোগগুলো কী রকম জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার সময় বাংলাদেশে যেসব স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করছিল তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি আমরা। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। বেশ কিছু অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করেছি। রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে কাজ করেছি। সেখানে ৪টা মেডিক্যাল সেন্টার বানিয়েছি। এগুলোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে যা করা দরকার তা করা হয়েছে। স্থানীয় অনেক এনজিও সহযোগিতা করেছে।

৮০ শতাংশ কাজই বাংলাদেশে করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবুজ পল্লি আমাদের সেরকমের উদ্যোগ। আমরা চাই বাংলার প্রতিটা গ্রামে এটি ছড়িয়ে পড়বে। কোনও  গ্রামে স্বাস্থ্য সচেতনতা কেমন সেটি বিবেচনা করি প্রথমে। এরপরে সুরক্ষার জন্য বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা করা হয়। আমরা তাদের সমিতি করে দেই। হালুয়াঘাটের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সেখানে আমরা কাজ করে তাদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করেছি।

কাজের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে কথা তুলতেই তিনি বলেন, প্রথমে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হইনি তা নয়। বিশ্বাসযোগ্যতার সমস্যা ছিল। কাজ করতে করতে মানুষ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে, বুঝতে পেরেছে আমাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই, আমরা কেবল বিনাস্বার্থে সহযোগিতাই করতে চেয়েছি। হালুয়াঘাট-কুয়াকাটায় যা করতে পেরেছি সেটা বাংলার প্রতিটা গ্রামে করতে চাই। অনেক কিছু করতে চাই, করেছিও। যেমন, কোরবানির সময় মাংস বিতরণ, উদ্দীপন কর্মসূচির আওতায় শিশুদের নানা সহযোগিতা করা, কম্বল বিতরণ, রোজার মাসে ফুড বাস্কেটের ব্যবস্থা করা।

১০ বছর পর কোথায় দেখা যাবে বিদেশ ফাউন্ডেশনকে- প্রশ্ন করা হলে তিনি আবারও সবুজ পল্লির কথাই উল্লেখ করেন মীর আলী। বলেন, সামর্থ্য থাকলে সারা দেশেই এটা করতাম। বিদেশে থেকে দেশে কাজ করতে কিছু জটিলতা হয়। তবে কাজটি ভালোমতো চালিয়ে যাওয়াটাই এখন লক্ষ্য।