দুই গারো কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

আগেও ধর্ষণের অভিযোগ ছিল রিয়াদের বিরুদ্ধে

সম্প্রতি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের গারো সম্প্রদায়ের দুই কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি সোলায়মান হোসেন ওরফে রিয়াদ (২২) স্থানীয়ভাবে এক আতংকের নাম। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ইভটিজিং ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। তাকে শনিবার (৮ জানুয়ারি) ভোরে হালুয়াঘাট থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পরে এ বিষয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, গারো সম্প্রদায়ের দুই কিশোরীকে ধর্ষণের আগেও ধর্ষণের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। যা সে সময়ে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হয়। তার বাবা এবং মামা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি (মেম্বার) হওয়ায় তাদের আধিপত্যের কারণে অপরাধ করেও পার পেয়ে যায় সে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ র‌্যাবকে জানায়, ঘটনাস্থলে ১০ জন উপস্থিত থাকলেও ছয় জন ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত, বাকি চার জন পাহারা দিচ্ছিল। মূল হোতা রিয়াদের শিক্ষাগত যোগ্যতা তেমন নেই, তিন বছর মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিল সে। এলাকায় ১০ থেকে ১২ জনের একটি ‘বখাটে গ্রুপ’ ছিল তার। তাদের বয়স সবাই কিশোর-তরুণ বয়সী, ১৯ থেকে ২১ বছরের মধ্যে।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যরা পলাতক বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা (এরই মধ্যে ডিবি পুলিশের হাতে আরও পাঁচজন গ্রেফতার)। তিনি বলেন, জড়িতদের পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে, যেন তারা এদের আইনের হাতে সোপর্দ করেন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে হালুয়াঘাটে সেখানে একটি গারো সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল।বখাটে রিয়াদ তার দলের সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে সেই অনুষ্ঠানে গিয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে দুই কিশোরী বাসায় ফিরে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে গতিরোধ করে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর ওই দুই কিশোরীকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছেড়ে যায় বখাটেরা। 

৩০ ডিসেম্বর সোলায়মান হোসেন রিয়াদকে প্রধান আসামি করে হালুয়াঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এসময় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। লোকলজ্জা এবং আসামিদের হুমকির ভয়ে ভীত হওয়ার কারণেই মামলা করতে দেরি হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুন:
দুই গারো কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: মূল আসামিসহ গ্রেফতার ৬