আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করে এমন সরঞ্জামসহ রাজধানী মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আট জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের একটি টিম। সংস্থাটি বলছে, গ্রেফতারকৃতরা একটি ডাকাত দলের সদস্য, তারা ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি করতো।
সোমবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) একেএম হাফিজ আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান।
এর আগে রবিবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. মোজাম্মেল হোসেন আপেল ওরফে হাজী, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জমির খান, মো. মজিবর রহমান মজিদ ওরফে মোক্তার, মো. মাসুম গাজী, শফিকুল খরাদী, মো. কুদ্দুস আলী ও মো. কাউছার মিয়া।
গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি সিলভার রঙের হাইয়েস মাইক্রোবাস, একটি বাটযুক্ত ব্যারেল কাটা দুনালা বন্দুক, একটি ওয়্যারলেস সেট, একটি হ্যান্ডকাফ, ডিবি লেখা দুটি নকল জ্যাকেট, দুটি লোহার চাপাতি ও দুটি লোহার ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, গাড়িটিতে ডিবি লেখা স্টিকার লাগানো রয়েছে এবং ড্রাইভারের পাশের সিটে বসা ব্যক্তির হাতে ওয়্যারলেস সেট দেখতে পাওয়া যায়। পরিচয় নিশ্চিত করার জন্য ডিবি টিম সামনে অগ্রসর হলে হাইয়েস মাইক্রোবাসের সামনে থাকা প্রাইভেটকারটি দ্রুত গতিতে গাবতলীর দিকে চলে যায়। পরবর্তীতে মাইক্রোবাসটি ঘিরে ফেলা হয়। মাইক্রোবাসের দরজা খুলে ডিবি লেখা জ্যাকেট পরিহিত একজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানো চেষ্টা করে। এসময় ধাওয়া করে মো. জাহাঙ্গীর আলম (৪৫) নামে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর মাইক্রোবাসটিতে থাকা অন্যদেরও গ্রেফতার করা হয়।
হাফিজ আক্তার বলেন, কয়েক মাস ধরে দুর্ধর্ষ এই ডাকাত দলটি টাঙ্গাইল, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়ীয়াসহ ঢাকা মহানগরের আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি ডাকাতির করেছে। এ চক্রের সাথে বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত বেশ কিছু সদস্য সম্পৃক্ত। এ পেশাদার চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি।