সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসানের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
রবিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের কার্যক্রম শুরু হলে বিচারপতির মৃত্যুতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার প্রস্তাব তোলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন।
পরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ফিদা এম কামাল, মনসুরুল হক চৌধুরী, আজমালুল হোসেন কিউসি, হাসান আরিফ, এসএম শাহজাহান, এএফএম আব্দুর রহমান, মোমতাজউদ্দিন ফকির, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ অ্যাটর্নি জেনারেলের প্রস্তাবে সমর্থন দেন।
তারা আদালতকে বলেন, এটা দীর্ঘদিনের ট্রেডিশন যে কোনও সিটিং জাজ মারা গেলে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচার কাজ বন্ধ রাখা হয়। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহাসান আপিল বিভাগে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কিন্তু শপথ নিতে পারেননি। তার আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিচার কাজ আজকের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করছি।
সকলের প্রস্তাব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদকসহ সিনিয়র আইনজীবীরা যে প্রস্তাব রেখেছেন তাতে সবাই অবগত আছেন যে, ৪ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান মারা গেছেন। তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচার কাজ বন্ধ রাখা হলো। আপনারা সবাই ভালো থাকুন। সবাই সবার জন্য দোয়া করবেন।
এর আগে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভোর সোয়া ৬টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান মৃত্যুবরণ করেন।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত অন্য তিন বিচারপতির সঙ্গে নাজমুল আহাসানও আপিল বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। শপথ গ্রহণের দিন থেকে নিয়োগ কার্যকর হবে বলে নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত এই চার বিচারপতির মধ্যে বোরহান উদ্দিন, এম. ইনায়েতুর রহিম ও কৃষ্ণা দেবনাথ গত ৯ জানুয়ারি শপথ নেন। শপথের পর সেদিন থেকেই তারা আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে বিচারকাজ পরিচালনা করে আসছেন। তবে বিচারপতি নাজমুল আহাসান করোনা সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় শপথ নিতে পারেননি।