‘খালেদা জিয়ার পুরস্কারটি কানাডীয় সংগঠনের প্রধান কার্যালয়ের বিষয় ছিল না’

খালেদা জিয়ার ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারটি কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশনের মূল কার্যালয়ের বিষয় নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট ম্যারিও গুইলোম্বো। তিনি জানান, এটি সংগঠনটির এশিয়া মিশনের বিষয়, সংগঠনটির আঞ্চলিক এই মিশনই এ পুরস্কারের মনোনয়ন দিয়েছে।

শুক্রবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ফেসবুক লাইভে এক আলোচনায় কানাডার বাংলা পত্রিকা ‘নতুনদেশ’-এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর একথা জানান। ফেসবুক লাইভে তার সঙ্গে ছিলেন কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশনের এশিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক মো. মমিনুল হক।

এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আগে ম্যারিও গুইলোম্বোর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে বলে জানান শওগাত আলী সাগর। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তার (ম্যারিও) যুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ সময়ে অজানা কারণে যুক্ত হননি।

তিনি আরও জানান, সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট মারিও গুইলোম্বো তাকে জানিয়েছেন, এই পুরস্কার নিয়ে অরগানাইজেশনের ইন্টারন্যাশনাল সেক্রেটারি বা প্রধান অফিসের সেক্রেটারিরা কাজ করেননি। এটি তাদের অরগানাইজেশনের এশিয়া মিশনের বিষয়। খালেদা জিয়াকে পুরস্কৃত করার বিষয়টি মূল অফিসের নয়।

ফেসবুক লাইভের আলোচনায় মমিনুল জানান, কানাডিয়ান হিউম্যান রাইটস অর্গানিজেশন মূলত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এর মূল কাজ হচ্ছে ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘের গৃহীত সার্বজনীন মানবাধিকার সনদের ভিত্তিতেই আমাদের সংগঠন পরিচালিত হচ্ছে। এই সংগঠন একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কানাডায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

নিজের সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার ব্যাকগ্রাউন্ড বাংলাদেশি, নিয়োগ পাওয়ার আগে সংগঠনটিতে আমি দীর্ঘদিন স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছি। তাদের একটি প্রোগ্রামের যুক্ত হওয়ার পর তারা আমাকে এশিয়ার ডিভিশনের জন্য নির্বাচন করে। এই প্রতিষ্ঠানকে মূলত আমি বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কারণ বাংলাদেশের জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এবং তারা জানেন না তাদের মৌলিক অধিকার কী অথবা জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী তাদের অধিকার কী; এ বিষয়গুলোতে তাদের জানাতে কাজ করতে চেয়েছিলাম।

এশিয়া মিশনের কোনও কার্যালয় আছে কিনা জানতে চাইলে মমিনুল হক জানান, এশিয়া মিশনে ২০ থেকে ৩০ জন কাজ করে। তবে এই অঞ্চলে কোনও কার্যালয় নেই। তিনি বলেন, ‘আমাদের আর্থিকভাবে এতটা স্বচ্ছলতা নেই যে, আলাদা একটা অফিস করতে পারবো। এখানে যারা এ কাজ করে তারা কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী, এই সংগঠনে কেউ চাকরি করছে না।

খালেদা জিয়াকে দেওয়া ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারটি প্রথমবারের মতো দেওয়া হয়েছে। এই পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি কোনও নেতা বা নেত্রী মানবাধিকার সোশ্যাল জাস্টিস নিয়ে কাজ করে আমরা অবশ্যই তাকে (পুরস্কার) দেবো। আপনি যদি আমাদের কাছে কারণ নাম প্রস্তাব করেন আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো, যদি দেওয়ার মতো হয় তাহলে দেবো। এই পুরস্কার মূলত সংগঠনের ট্রিলিয়াম অ্যাওয়ার্ডের অন্তর্গত। এই প্রথম বার আমরা এই পুরস্কারটি দিয়েছি। 

এসময় ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারটি শুধু এশিয়া মিশনের ক্রাইটেরিয়া কিনা জানতে চাইলে মামুনুল হক, ‘না, মূল ট্রিলিয়াম অ্যাওয়ার্ডের একটা ক্যাটাগরি হচ্ছে মাদার অব ডেমোক্রেসি।’

এসময় শওকত আলী সাগর জানতে চান, ২০২১ সালে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ পুরস্কারের জন্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে মামুনুল নিজেকেও নমিনেশন দিয়েছেন বলে জানতে পেরেছেন। এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘না, এটা সত্য নয়। এটা আপনি কোত্থেকে জেনেছেন আমি জানি না।’