‘আমার মায়ের হত্যাকারী ধরা পড়ে না’

‘কত ছিনতাইকারী ধরা পড়ে, কিন্তু ৯ মাস পার হয়ে গেলেও আমার মায়ের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা ছিনতাইকারীরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। তাদের শনাক্তও করা যায়নি।’ ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে রবিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাংলা ট্রিবিউনকে এমনটা বললেন ছিনতাইকারীদের টানে ভ্যানিটি ব্যাগসহ রিকশা থেকে পড়ে নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুনিতা রানী দাসের (৫০) ছেলে রাজা দাস।

মা হারানোর কষ্ট বুকে চেপে রাজা বলেন, উপার্জনক্ষম মাকে হারিয়েছি। এখন একজনের উপার্জনেই চলছে চার জনের সংসার। ভীষণ হিমশিম খেতে হচ্ছে। মা ছিলেন পরিবারের চালিকাশক্তি। এখন সব আমাকেই সামলাতে হচ্ছে। মায়ের এমন চলে যাওয়া আমাদের পরিবারের জন্য খুব বেদনার। এদিকে আর্থিক অনটনও বেড়েছে।

সবুজবাগ বৌদ্ধ মন্দিরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর দায়িত্ব পালন করা সুনিতা রানী দাস প্রতিদিনের মতো ২০২১ সালের ৫ মে ভোরে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন। মানিকনগরের বাসা থেকে রিকশায় রওনা হয়ে মতিঝিলের কমলাপুর বিআরটিসি বাস ডিপোর সামনের রাস্তায় এলে একটি প্রাইভেটকার থেকে দুই যুবক রিকশায় থাকা সুনিতা রানী দাসের ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দিলে ছিটকে পড়ে যান তিনি। মাথায় আঘাত পেয়ে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ ঘটনার পরপরই সুনিতা রানী দাসের স্বামী সুজন দাস মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। থানা-পুলিশ ঘুরে মামলাটি এখন মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তাধীন।

তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ সুনিতা রানীর ছিনতাই হওয়া ভ্যানিটি ব্যাগটি রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার করে। এ সময় এক মাদকসেবীর কাছ থেকে তার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করে মতিঝিল গোয়েন্দা পুলিশ। এছাড়া আর কোনও অগ্রগতি নেই এই মামলার।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনাস্থলের কোনও সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তবে আশপাশের ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ভোরের দিকে হলেও মতিঝিলের এই রাস্তায় সেদিন গাড়ির চাপ বেশি ছিল। তাই গাড়িটি শনাক্ত করতেও সময় লাগছে।

ঘটনার আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংগ্রহ করেছে। এরইমধ্যে সন্দেহভাজন পেশাদার দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উজ্জল খান (৩৭) ও মোহাম্মদ সোহরাব ওরফে সোরাব মিয়াকে (২৮) উত্তরা থেকে গ্রেফতার করে মতিঝিল গোয়েন্দা পুলিশ। সুনিতা হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে দুজনকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে এখনও তাদের সংশ্লিষ্টতা পায়নি গোয়েন্দা পুলিশ।

মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রফিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনার পর থেকে বিষয়টি আমাদের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বেশ ভাবাচ্ছে। ৯ মাসে অনেক ছিনতাইকারীকে ধরেছি, জিজ্ঞাসাবাদও করেছি। কিন্তু এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি কেউ এখনও স্বীকার করেনি। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

মতিঝিল গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মতিঝিল জোনাল টিম) আফসার উদ্দিন খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনাস্থলের কোনও ফুটেজ পাইনি। যেদিন ভোরবেলা ঘটনাটি ঘটেছে সেদিন গাড়ির মুভমেন্ট বেশি ছিল। অন্যান্য রাস্তায় যেসব ফুটেজ রয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করে আমরা গাড়িটি শনাক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ছিনতাইয়ে জড়িত থাকা বেশ কয়েকজন নজরদারিতে রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিতের পাশাপাশি গ্রেফতারেও আমরা অভিযান চালাচ্ছি।