একুশে ফেব্রুয়ারি মেলার সপ্তম দিন আজ সকালে বইমেলা হয়ে উঠে কচিকাঁচার মেলা। সকাল ৮টায় মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই বাবা, মা ও আপনজনদের হাত ধরে দলে দলে আসতে শুরু করে শিশু-কিশোররা। মেলা ঘুরে দেখা যায়, যত লোকসমাগম তার প্রায় অর্ধেকই শিশু-কিশোর।
মেলা প্রাঙ্গণের শিশু চত্বরে স্বাভাবিক কারণেই শিশুদের ভিড়। শিশুরা স্টলে স্টলে ঘুরে বই দেখছে, কিনছে। আপনজনদের তাগাদা দিচ্ছে পছন্দের বই খুঁজে দিতে। শিশুদের মেলায় ছুটোছুটি, বই দেখা, কেনা দেখে ভালো লাগছে প্রকাশক, বিক্রয়কর্মী ও দর্শনার্থীদের।
বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক প্রশান্তময় চক্রবর্তী সকালে মেলায় এসেছেন সহধর্মিনী ও ছেলেকে নিয়ে। সকালে এসেছেন যেন ভিড় এড়িয়ে নিজেদের ও ছেলের পছন্দ মতো বই স্বাচ্ছন্দ্যে কিনে বাড়ি ফিরতে পারেন। মেলার শিশুচত্বরে এক স্টল থেকে ঘুরে আরেক স্টলে যাচ্ছিলেন ছেলের পছন্দের বই খুঁজতে। এ সময় তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে এসেছি, কারণ এ সময় ভিড়টা কম হয়। এসে মেলার পরিবেশ, লোকজন সব মিলিয়ে ভালো লাগছে।’
মেলা প্রকাশের স্বত্বাধিকারী এমএস দোহা বলেন, ‘একুশে বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। এটার সঙ্গে জাতীয় অস্তিত্ব, সত্তা জড়িত। করোনার এ সময়ে মেলার আয়োজন আসলে একটি ইতিবাচক দিক। গতবার মেলা ছিল অনেকটা নিরস, প্রাণ ছিল না বললেই চলে। এবার মেলার আশার দিক হচ্ছে, আগামীকাল থেকে বিধিনিষেধ উঠে যাচ্ছে। সেদিকটি মাথায় রেখে একুশের সকালে আশানুরূপভাবে দর্শক দেখা যাচ্ছে। সকালের দিকটায় শিশুরাই বেশি আসছে। ঘুরে ফিরে দেখছে, বই কিনছে। আমরা আশাবাদী বিকালে ভিড় আরেও বাড়বে।’
ঘাসফড়িং প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মো. শাহিদ বলেন, ‘মেলায় শিশুরা আসছে, ঘুরছে, ছুটোছুটি করছে—দেখতেই ভালো লাগছে। সকালে পাখির কিচিরমিচির আর কচিকাঁচাদের কোলাহল দেখে খুবই ভালো লাগছে। তাছাড়া বিক্রিও হচ্ছে ভালো।’