লেখক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ‘বহুমাত্রিক সৈয়দ আবুল মকসুদ’ শীর্ষক স্মরণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণ সভায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও ঐক্য ন্যাপ সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, ‘সৈয়দ আবুল মকসুদ জাতির অন্যতম বিবেক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।’
প্রয়াত এই লেখকের স্মৃতিচারণ করে পঙ্কজ ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘জাতীয় দুর্যোগ, নারী, শিশু ও আদীবাসীদের উপর নিপীড়ন; এসব ছিল আমার আর তার মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তু। আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতাম আমরা। গত ৩০ বছরে তার সঙ্গে আমি কয়েক লাখ কিলোমিটার ঘুরেছি, মানুষের অধিকার রক্ষার আন্দোলনে। আবার ঢাকায় ফিরে আমরা রাজপথে দাঁড়িয়েছি। সৈয়দ আবুল মকসুদ পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে যেমন সম্মুখ সারির নেতা ছিলেন, তেমনি নারী ও আদিবাসীদের উপর সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর।
একইসঙ্গে বিভিন্ন অন্যায়ের বিচারের দাবিতে তিনি লড়াই করেছেন বলেও মন্তব্য করেন পঙ্কজ ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের যেকোনও জায়গায় মানুষ নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার হলে এর বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন আবুল মকসুদ। ইরাকে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে তিনি রঙিন পোশাক পরিত্যাগ করেছিলেন, শ্বেতশুভ্র দুই খণ্ড কাপড় ধারণ করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ছিলেন আজীবন প্রতিবাদী, তিনি সবসময় প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে থাকবেন।
এসময় ঢাবির ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্মৃতিচারণ করেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, সাংবাদিক শরীফুল ইসলাম প্রমুখ। সমাপনী বক্তব্য দেন লেখকপুত্র সৈয়দ নাসিফ মকসুদ।
সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদের জীবনের দুটি দিক ছিল। একদিকে তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও গবেষক, অন্যদিকে তিনি ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। তবে তার এই দুইটি দিকের মধ্যে মিল ছিল। তার সাহিত্যের মধ্যে রসবোধ ছিল, সাংবাদিক হিসেবে তিনি ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, একইসঙ্গে তার গবেষণার মধ্যেও ছিলো মৌলিকত্ব যা ছিল ঈর্ষণীয়। সবকিছুকেই তিনি একাত্ম করেছিলেন। অন্যদিকে, তিনি কর্মী হিসেবে সাহসের সঙ্গে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, সাহস এমন একটি গুণ, যা না থাকলে মানুষের মধ্যকার অন্যান্যগুলো দাঁড়াতে পারে না। অন্যদিকে, একা সাহস করলে সেটি হবে হঠকারী সিদ্ধান্ত। এর জন্যে নিজের সাহস অন্যের মধ্যে সংক্রমিত করতে হবে। এই জায়গায় তিনি ছিলেন অসাধারণ। দেশের যেকোনো জায়গায় অন্যায় হলেই তিনি সেখানে চলে যেতেন এবং সবার মাঝে সাহস সঞ্চার করে ভয়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেন। বর্তমানে একটা কঠিন সময় চলছে। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা চরম হয়ে উঠেছে, ফ্যাসীবাদীর আক্রমণ নগ্ন হয়ে উঠেছে- ঠিক এমন একটা সময়ে তিনি চলে গেলেন। এসবের বিরুদ্ধে তিনি তার কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ করতেন।