জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন পূরণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরের সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বঙ্গবন্ধুর জীবনীর ওপর বিশেষ আলোচনা এবং ১৯৭৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এর তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত ভাষণ ও ‘সতীর্থ এসো সত্যাশ্রয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক প্রামান্যচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ লক্ষ্যে তিনি কাজও শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ করে যেতে পারেননি।’ বিজিবি মহাপরিচালক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ার জন্য সবাইকে নিবেদিত প্রাণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর রয়েছে দীর্ঘ কারাবরণের ইতিহাস। বাঙালি জাতিকে মুক্তির স্বাদ এবং স্বাধীনতা দেওয়ার লক্ষ্যে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। অকাতরে জেল-জুলুম সহ্য করেছেন। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন সহজসাধ্য ছিল না। বঙ্গবন্ধু অতি অল্প সময়ে বাংলাদেশের সংবিধান রচনাসহ পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, শিল্পনীতি, খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ঠিক করে বাংলাদেশের পুনর্গঠন কাজে ঈর্ষনীয় সাফল্য দেখিয়েছিলেন। তিনি দেশে দেশে ঘুরে বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের পাশাপাশি দেশকে বিশ্বের দরবারে পরিচিত করেছেন। তিনিই প্রথম জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ প্রদান করে বাংলাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন।’
বিজিবি মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মের মধ্য দিয়ে একজন রূপকারের জন্ম হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও বাংলাভাষা একইসূত্রে গাঁথা। বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। ১৯৪৮ সালে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন, ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ৭ ’র সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর অবদান অবিস্মরণীয়। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ছিল বাঙালির মুক্তির দিশা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। এ ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এটা আমাদের জন্য পরম পাওয়া ও অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
জাতির পিতার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বাদ জোহর পিলখানাস্থ কেন্দ্রীয় মসজিদসহ সব রিজিয়ন, প্রতিষ্ঠান, সেক্টর ও ইউনিট কর্তৃক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের জন্য দোয়া এবং দেশ ও মানুষের সমৃদ্ধি কামনা করা হয়।
এ সব অনুষ্ঠানে বিজিবি’র সব পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা, জুনিয়র কর্মকর্তা, সৈনিকসহ বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পিলখানাসহ সারাদেশে বিজিবি’র সব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বর্ণিল আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়।