মোংলা বন্দরের চ্যানেল পশুর নদী খননে ওঠে আসা বালু কৃষি জমিতে ফেলায় নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি এবং উর্বরতা হারাচ্ছে মাটি। কৃষিজমি বাঁচাতে এ বালু ফেলা বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।
রবিবার (১০ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার মোংলা শাখার আহ্বায়ক মো. নূর আলম শেখ। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত প্রতিবেশ সঙ্কটাপন্ন যেসব এলাকায় ভরাট ও শিল্প স্থাপন নিষেধ করেছে উচ্চ আদালত—মোংলা ও দাকোপ উপজেলায় জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত স্থানগুলো সেই এলাকার অন্তর্ভুক্ত।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘জেলা প্রশাসন ও বন্দর কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে স্থানীয়দের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে পশুর নদী খননে উত্তোলিত মাটি ও বালু ফেলার মাধ্যমে মোংলার ৭০০ একর জায়গায় বালুর পাহাড় গড়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিয়েছে। একইসঙ্গে দাকোপ উপজেলার বাণীয়াশারা ইউনিয়নের ৩০০ একর জমিতে খনন কাজের মাটি ও বালু ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে ফসলি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাপার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ বছরে বিঘা প্রতি দুই লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে জমির মালিকদের। তবে এলাকার কৃষকরা বিঘা প্রতি একটি জমিতে চার লাখ টাকার তরমুজ এবং দুই সিজনে চার লাখ টাকার ধান বিক্রি করেন। অর্থাৎ যেখানে এক বছরে কৃষকরা আট লাখ টাকার ফসল বিক্রি করতে পারেন, সেখানে বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ১০ বছরের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে মাত্র দুই লাখ টাকা।
বাপার কোষাধ্যক্ষ মহিদুল হক খানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন বাপার সহ-সভাপতি ও বেনের প্রতিষ্ঠাতা ড. নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।