রাজারবাগ দরবারের বিরুদ্ধে তিন সংস্থার প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল

বারবার আলোচনায় আসা রাজারবাগ দরবার শরীফের বিরুদ্ধে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এর প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

রবিবার (১০ এপ্রিল) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদনগুলো সিলগালা করে দাখিল করা হয়। পরে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৩ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেন।

আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী রিটকারীদের আইনজীবী এমাদুল হক বশির।

এর আগে দেশের বিভিন্ন জেলায় ৪৯টি মামলা হওয়ার বিরুদ্ধে একরামুল আহসান কাঞ্চন ন্যায় বিচার পেতে এবং ঘটনার পেছনে দায়ীদের খুঁজতে তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে একরামুলের বিরুদ্ধে হওয়া ৪৯ মামলার তদন্ত করে ৬০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে রুলসহ আদেশ দেন।

এরপর সিআইডির প্রতিবেদনে কাঞ্চনের বিরুদ্ধে পীর সিন্ডিকেটের করা হয়রানিমূলক মামলার তথ্য উঠে আসে। পরে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদের তথ্য খুঁজতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), তাদের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা তদন্ত করতে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং উচ্চ আদালতে রিটকারী ৮ জনের বিরুদ্ধে করা হয়রানিমূলক মামলার বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এরপর সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পীর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে।

পরবর্তীতে গত ২ ডিসেম্বর পীর দিল্লুর রহমানসহ চার জনের বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। এরপর গত ৫ ডিসেম্বর জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় রাজারবাগ দরবার শরীফ নজরদারিতে রাখতে কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমকে (সিটিটিসি) নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও এমাদুল হক বশির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাহিদ হোসেন দোলন।

একইসঙ্গে হাইকোর্ট তার আদেশে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি ও কাউন্টার টেরোরিজমের ইউনিটির প্রতিবেদনের জঙ্গি সম্পৃক্ততা সহ বেশকিছু অভিযোগ ওঠায় রাজারবাগ দরবারের পীর দিল্লুর রহমানসহ তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা চাইলে মামলা করতে পারবে বলে আদেশ দেন। এছাড়াও সরকারি সংস্থাগুলোর তদন্ত চলাকালে পীর ও তার অনুসারীদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারবেন বলেও আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে রিটকারীর আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মৌখিক নির্দেশ দেন আদালত।