অনলাইনভিত্তিক এমএলএম কোম্পানির মালিক গ্রেফতার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে অনলাইনভিত্তিক এমএলএম কোম্পানি ‘ভিশন ২০২৫ ডিজিটাল আইটি ওয়াল্ড লিমিটেডের’ পরিচালক মো. নাজমুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বুকলেট, গ্রাহকের বিকাশ লেনদেনের হিসাব, লিফলেট, চেকবই ও প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত কম্পিউটার জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় র‌্যাব-৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও স্টাফ অফিসার (অপস্ ও ইন্ট শাখা ) বীণা রানী দাস এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, একটি প্রতারকচক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ‘ভিশন ২০২৫ ডিজিটাল আইটি ওয়াল্ড লিমিটেড’ নামে ভুয়া এমএলএম কোম্পানি খুলে সাধারণ লোকদের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা পূর্বক বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার বিকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে  ভুয়া এমএলএম কোম্পানির পরিচালক  নাজমুল ইসলাম (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তি সাধারণ জনগনের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। সে মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ‘১০ লাখ টাকা দিলে লভ্যাংশ হিসেবে দুই মাস অন্তর ৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা একটি লিংকে ভিডিও দেখার মাধ্যমে দেবে’ বলে প্রলোভিত করে।

এছাড়া নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই চক্রটি একটি অনলাইন সাইট খুলে সেখানে আইডি খোলার জন্য গ্রাহকদের বিভিন্ন লোভনীয় অফার প্রদান করে। এমএল.এম ব্যবসার অনুকরণে নতুন সদস্য সংগ্রহ করে তাদেরকে গ্রাহক বানালে কমিশন পাওয়া যাবে এবং কিছু গ্রোসারি পণ্য বিক্রি করে দিলে কোম্পানি থেকে কমিশন পাবে বলেও গ্রাহকদের তারা লোভনীয় অফার দিতো।

বর্তমানে তাদের লক্ষাধিক রেজিস্টার্ড গ্রাহক রয়েছে এবং প্রায় ১১ হাজার সক্রিয় সদস্য রয়েছে। গ্রাহকরা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের কোম্পানির সদস্য হতে পারে। বর্তমানে গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা তাদের কাছে আটকে আছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে মৌচাক এলাকায় তাদের এই ভুয়া কোম্পানির অফিস  খোলা হয়। কিন্তু অক্টোবর মাসে স্থায়ীভাবে অফিস বন্ধ করে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

গ্রাহকরা বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গেহ যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন তালবাহানা করতে থাকে। এমনকি তারা গ্রাহকদের পাওনা টাকা দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় এবং বাড়াবাড়ি করলে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও জীবননাশের হুমকি প্রদান করা হয়। এভাবে প্রতারক চক্রটি ১১ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।