ঈদে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশনের আহ্বায়ক সদরুল হাসান মজুমদার বলেছেন, অভিভাবকদের অসচেতনতায় দেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর হার বাড়ছে। তাই আসন্ন ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা যেন না বাড়তে পারে, এর জন্য অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ড্রাউনিং প্রিভেনশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সদরুল হাসান মজুমদার বলেন, ‘ঈদের ছুটি কাটাতে শহরের অধিকাংশ মানুষ নাড়ির টানে গ্রামে যাবেন। শহুরে জীবনে অভ্যস্ত অনেক শিশুই সাঁতার জানে না, অথচ ছুটির সময়ে গ্রামের বাড়িতে বেড়ানোর একটা অন্যতম আকর্ষণ হলো উন্মুক্ত জলাধারে (পুকুরে বা খালে-নালায়) গোসল করা। এই সময়ে প্রয়োজন শিশুদের অধিকতর পরিচর্যা (সুপারভিশন) করা এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরে রাখা।’

তিনি বলেন, ‘পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর এমন ঘটনা ঘটে থাকে—বাড়ির নিকটতম জলাধার, যেমন- পুকুর বা খালে। যা ঘর থেকে গড়ে প্রায় ৪০ কদম দূরে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটে থাকে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে। সে সময় পরিবারের সদস্যরা বিশেষ করে মায়েরা প্রাত্যহিক কাজে ব্যস্ত থাকেন। অর্থাৎ এই সময়টাতে শিশুদের বিশেষ করে অনূর্ধ্ব ৫ বছর বয়সী শিশুদের দেখভাল করার সার্বক্ষণিক কেউ থাকে না।’

উল্লেখ্য, আমাদের দেশে সামগ্রিকভাবে, বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার কোনও ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনায় অংশ নেন—এনএডিএফের সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল জলিল চৌধুরী, নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা সেলিনা আহমেদ ইনা।