‘ঈদ আসেনি’ নাহিদের পরিবারে

রাজধানীর নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সংঘর্ষে নিহত ডেলিভারিম্যান নাহিদ হাসানের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে এখনও শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি তার পরিবার। নাহিদকে ছাড়া ঈদে তেমন কোনও আয়োজন হয়নি তার পরিবারে।

গত ১৮ এপ্রিল রাতে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। রাতে বিরতি দিয়ে পরদিন (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে শুরু হয় ফের দফায় দফায় সংঘর্ষ; যা চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ সংঘর্ষে আহত হন কুরিয়ার সার্ভিস ডিলিংকের ডেলিভারি ম্যান নাহিদ হাসান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় তার চাচা বাদী হয়ে নিউ মার্কেট থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি মামলা করেছেন।

নিহত নাহিদ

নাহিদের মৃত্যুর দুই সপ্তাহ পার হতে না হতেই এসেছে ঈদ। রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের ভাড়া বাসাতেই ঈদ করছে নাহিদের পরিবার। ঈদের দিন অনেকেই তাদের বাসায় এসেছেন, খোঁজ-খবর নিয়েছেন। তবে তাদের ঘরে ঈদ আসেনি। নাহিদের মা নার্গিস বেগম বলেন, ‘আমার ঈদ তো দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে। আর ঈদ হবে না।’

মাত্র ছয় মাস আগে নাহিদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ডালিয়া আক্তারেরও শ্বশুরবাড়িতে এটি প্রথম ঈদ। যেদিনটিতে নতুন করে মেহেদি রাঙিয়ে আনন্দে মেতে ওঠার কথা, সেদিনও শোকে স্তব্ধ হয়ে উঠছে সদ্য স্মৃতিময় হয়ে ওঠা দিনগুলো স্মরণ করে।

ঈদের দিন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে নাহিদের বাড়িতে গিয়ে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তার স্ত্রী ডালিয়া জানালেন, স্বামীর সঙ্গে প্রথমবার ঈদ করবেন বলে রমজানের প্রথম থেকেই তাদের পরিকল্পনা শুরু হয়েছি। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে নাহিদের চলে যাওয়ায় ভেস্তে গেছে সবই।

নাহিদের-বাবা

ডালিয়া আরও জানান, বিয়ের পর প্রথম ঈদ, এ নিয়ে নাহিদের অনেক আগ্রহ ছিল। কেনাকাটা ঘোরাঘুরির কথাও বলেছিল সে। কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেটে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করবেন বলেও দুই জনে মিলে পরিকল্পনা করেছিলেন। ঈদের পরের দিন ডালিয়ার বাবার বাড়ি টাঙ্গাইলেও যাওয়ার কথা ছিল একসঙ্গে।

তবে ঈদ উপলক্ষে অনেকেই নাহিদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ চাল দিয়েছেন, কেউ বাজার সদাই করে দিয়েছেন, আবার কেউ কেউ নগদ অর্থ সহায়তাও করেছেন। তবে সরকারের পক্ষে থেকে কোনও সহযোগিতা এখনও তারা পাননি।

নাহিদের মা নার্গিস বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ঘটনার পর থেকে সবাই আমাদের পাশে ছিল, এখনও আছে। ইতোমধ্যে বসুন্ধরা গ্রুপ ১০ লাখ টাকা দিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে সংসদ সদস্য ও সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীও নিয়মিত খোঁজ-খবর নেন।

নাহিদের-স্ত্রী

এসবের পাশাপাশি কিছু তিক্ত ঘটনারও মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। সহায়তার নামে কেউ কেউ উত্ত্যক্ত করছেন তাদের। বিশেষ করে নাহিদের শোকাহত স্ত্রীকে বিভিন্ন অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে বিয়ের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কেউ বাসায় এসেও বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। 

নার্গিস বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ছেলেটা মারা গেছে মাত্র ১৫ দিন। আমরা এখনও সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারিনি।‘ এরই মধ্যে এমন প্রস্তাবে তারা বিরক্ত বলেও জানান তিনি।

এই সময়ে বিয়ের প্রস্তাব ‘চরম অপমানজনক’ বলে মনে করেন নাহিদের স্ত্রী ডালিয়া আক্তারও। তার কথায়, স্বামী হারানোর শোক সামলে তাকে লড়াই করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে এমন প্রস্তাব অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর।