সম্প্রতি নড়াইল জেলার লোহাগড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিচার দাবি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।
মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) বিকালে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নিজামুল হক ভুঁইয়ার সই করা গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অতীতে চট্টগ্রামের রামু, সুনামগঞ্জের সাল্লা প্রভৃতি স্থানে ধর্মকে পুঁজি করে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ঘটানো হয়। বিজ্ঞান-শিক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও তার পরিবারের ওপর আক্রমণ এবং জেল হাজতে প্রেরণের ঘটনা, মাথায় টিপ পরার কারণে নারীর প্রতি সহিংসতা, জনপ্রতিনিধি কর্তৃক শিক্ষককে প্রহার করা, শিক্ষককে কান ধরে জনসম্মুখে উঠ-বস করানো, তুচ্ছ ও বানোয়াট ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষককে জুতার মালা পরানো প্রভৃতি ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জুলাই নড়াইলের লোহাগড়ার দিঘলিয়া বাজার এলাকায় এক কলেজ ছাত্র কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি প্রচারের অভিযোগ তুলে ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও দোকানপাটে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এসব ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়ে দেশে বিরাজমান শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করে একটি মহল রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে তৎপর রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের অধিকাংশ মানুষ ধর্মপ্রাণ কিন্তু ধর্মান্ধ নয়। প্রত্যেক ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাঙালির জাতীয় চেতনার গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। কাজেই এ দেশের মানুষকে ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করা যাবে না। আমরা মনে করি, এ ধরনের অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে সভ্য সমাজ ব্যবস্থা কায়েম কোনোভাবেই সম্ভব হবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি অত্যন্ত হতাশার সঙ্গে লক্ষ করছে, এ ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তির অপকর্মমূলক অপরাধের কোনও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। ফলে বিচারহীনতা ও আইনহীনতার সংস্কৃতির প্রসার ঘটছে।
অবিলম্বে নড়াইলের দিঘলিয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি জানিয়ে একইসঙ্গে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানায় শিক্ষকদের এই সংগঠনটি।