খাল ও নদীর ওপর ভবনের নকশা কেন করা হয়, স্থাপত্যবিদদের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
বুধবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত নগর সংলাপে তিনি এ প্রশ্নটি উত্থাপন করেন।
মেয়র তাপস বলেন, 'যখন একটি ভবনের নকশা করা হয়, কোনও নকশাই স্থপতি ছাড়া হয় না। একজন ব্যক্তি যখন ছোট্ট একটি বাসাও বানায়, সেটার জন্যও সে চিন্তা করে তার পরিচিত একজন স্থপতি দিয়ে নকশাটি করিয়ে নেওয়ার জন্য। তাহলে কেনও খালের মধ্যে ভবন হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'কেন আদি বুড়িগঙ্গার মধ্যে দশতলা ভবন হয়। কেন সেপটিক ট্যাংক আর সোকওয়েল হয় না। এর কোনোটাই কিন্তু নতুন নিয়ম নয়। এগুলো পুরাতন নিয়ম। এগুলোর ব্যাপারে শুধু রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দোষ দেবো তা কিন্তু নয়। রাজউক ও সিটি করপোরেশন কেন গিয়ে ভেঙে দিলো না? আমরা ভেঙে দিয়ে আসি, পরের দিন গিয়ে দেখি আবারও করা হয়েছে।'
মেয়র তাপস ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্টের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ফারহানা শারমিনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এ প্রশ্নটি করেন।
সরকারি সংস্থার লজিস্টিক ও লোকবল সংকটের কারণে কেউ যেন ঢাকা শহরকে নষ্ট না করে ফেলে সেদিকে নজর রাখার অনুরোধ করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'এই যে খাল, নর্দমা নিয়ে আমরা কাজ করছি, আমরা এখানে স্বচ্ছ পানি, বৃষ্টির পানি চাই। আমরা কোনও পয়ঃপ্রণালির পানি ও বর্জ্য সেখানে চাই না। এরই মধ্যে আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি সব স্থাপনা ও ভবনে সোকওয়েল ও সেপটিক ট্যাংক থাকতে হবে। কিন্তু ভবনগুলো সেভাবে নির্মাণ হয়নি।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি অমিতোষ পালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সোহেল মামুনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চাইনিজ এন্টারপ্রাইজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি কে চ্যাংলিয়াং, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ফজলে রেজা সুমন, ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেক্ট বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক স্থপতি ফারহানা শারমিন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্সের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শিপলু এবং রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।