গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া ডাকাত দলের সর্দার সেখানে বসেই নতুন করে দল গোছাতো। বের হয়ে নতুন সদস্যদের নিয়ে আবারও ডাকাতি করতো। এমন এক ডাকাত সর্দারসহ চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ।
রাজধানীর লালবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় স্বর্ণের দোকান, বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকে ডাকাতি করে আসছিল চক্রটি। আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে ডাকাতিকালে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এরা।
বুধবার (২৭ জুলাই) ভোররাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির সময় অভিযান চালিয়ে ওই ডাকাত দলের ১১ জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো— সুমন চৌকিদার ওরফে সুমন মিয়া (৩৪), মো. মোস্তফা (৩২), মো. আরিফ হোসেন (৩৪), মো. পলাশ (৩২), মো. করিম (২৫), মো. হাসান (১৮), রিপন ওরফে আকাশ (২৪), জয়নাল আবেদিন (৩১), মো. ওমর ফারুক ফয়সাল (২০), রাসেল (২৪), মো. হাফিজুল ইসলাম (৩৩)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, বড় ছোরা, রামদা, দুটি চাপাতি, পাটের রশি, গামছা এবং পাঁচটি সিএনজি ও একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়। গাড়িগুলো তারা বিভিন্ন সময় ডাকাতি করে পরে নিজেরাই ব্যবহার করছিল।
হারুন অর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি ডাকাত দল রাজধানীর লালবাগ, নারায়ণগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে স্বর্ণের দোকান, বাস ও ট্রাকে ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ আসে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগ অভিযান চালিয়ে বুধবার (২৭) জুলাই ভোররাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্রসহ এদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার চক্রের মূলহোতা সুমিন চৌকিদার ওরফে সুমন মিয়া ডাকাতি করতে গিয়ে একটি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারীকে হত্যা করেছে। ডাকাত দলের প্রধান সুমনের বিরুদ্ধে হত্যা ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন থানায় ১৬টি মামলা ও পাঁচটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রেফতার দলের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতি ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানা যাবে।
ডাকাত দলগুলো কীভাবে বিদেশি অস্ত্র পাচ্ছে জানতে চাইলে ডিবি প্রধান বলেন, তারা অস্ত্র কীভাবে পেলো রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
ডাকাতি প্রতিরোধে থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি সতর্ক আছে জানিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, গোয়েন্দা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যাওয়া ডাকাত সর্দাররা নতুন করে দল গোছায়। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে নতুন সদস্য নিয়ে দল গড়ে আবারও ডাকাতি করছে। জেলে বন্দিদের সঙ্গে এরা কথা বলে। করোনার কারণে চাকরিতে বেতন কম, কিন্তু মাসে একটা ডাকাতি করলে অনেক টাকা পাওয়া যাবে, এমন প্রলোভন দেখায়। এদের পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ডিএমপির কোতোয়ালী থানায় দুটি ডাকাতির মামলা দায়ের করা হয়েছে।