রেলক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার যত কারণ

২৯ জুলাই রাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভোলারপাড়া রেল ক্রসিংয়ে চলন্ত ট্রেনের ধাক্কায় ২ অটোযাত্রীর মৃত্যু হয়।

২৪ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেল সড়কের মাইজপাড়া রেল ক্রসিংয়ে শ্রমিকবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কায় চার শ্রমিক নিহত হন।

গত বছরের ১১ জানুয়ারি রেল মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় এক সভায় উল্লেখ করা হয়, ২০০৮-২০১৮ সালে লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনায় ২৬৩ জন নিহত হয়েছেন। ২০১৯ সালে ১৮ ও ২০২০ সালে ১৭ জন প্রাণ হারান। এই সময়ে আহত হন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ।

রেলওয়ের হিসাবে, ২০১৪ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত ছয় বছরে রেলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৭৫ জন। এর মধ্যে ১৪৫ জনই প্রাণ হারিয়েছেন রেলক্রসিংয়ে। শুক্রবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রামেও এমন এক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১১ জন।

ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের। জানতে চাওয়া হয় রেল ক্রসিংয়ে কেন ঘটছে এত দুর্ঘটনা।ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন পার হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই ক্রসিং পার হয়েছেন এই বাইকাররা

গেটম্যানরা যা জানালেন-

  • রং-সাইড দিয়ে যানবাহনের যাতায়াত দুর্ঘটনার বড় কারণ। ক্রসিংগুলোতে এই দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়।
  • রেলক্রসিংয়ে অনেক গাড়ি ইউটার্ন নেয়। এতে অন্য যানবাহনের চলার স্বাভাবিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
  • ক্রসিংয়ের ওপর অনেক সময় বিকল হয়ে যায় গাড়ি। এতেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
  • সড়কে যানজট দেখা দিলে দেখা যায় ক্রসিংয়েও আটকে যাচ্ছে গাড়ি। সামনে-পেছনে সরতে না পেরে ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে সেগুলোর।
  • অনেক রেল ক্রসিংয়ে ট্রাফিক পুলিশ না থাকায় গেটম্যানদের সিগনাল মানতে চান না গাড়িচালকরা।
  • অনুমোদিত রেল ক্রসিংগুলোতে তিন শিফটে ১২ জন দায়িত্ব পালন করেন। তাদের কেউ অসুস্থ হলে বা ছুটিতে গেলে শিফট পূরণের কেউ থাকেন না। তখন কোনও কোনও গেটম্যানকে ১৬ ঘণ্টাও ডিউটি করতে হয়। দুর্ঘটনার জন্য এটাও একটা কারণ বলে জানিয়েছেন গেটম্যানরা।
  • ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার আরেকটি বড় কারণ পুরনো সিগনাল ব্যবস্থা। মাঝে মাঝেই যা অকার্যকর হয়ে পড়ে। এতে সময়মতো সিগনাল পান না গেটম্যানরা।
  • ট্রেন চালকদের মধ্যে হর্ন বাজানোর উদাসীনতার কথাও বলেছেন কেউ কেউ।
  • প্রতিটি ক্রসিংয়ের আগে সতর্কীকরণ ‘ডব্লিউ বোর্ড’ ব্যবহার করা হতো অনেক আগে। যা এখন নেই বললেই চলে। আবার অনেক রেলক্রসিংয়ে সিগনাল বাতি জ্বলে না। পাওয়া যায় না সতর্কীকরণ সাইরেন। এতে ট্রেন আসার বিষয়টি জানতে গেটম্যানদের বেগ পেতে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার সাহাদাত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ইলেকট্রনিক সিগনাল ব্যবস্থা নিয়ে বলতে পারছি না। তবে ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কখনও কমে, কখনও বাড়ে। এর পেছনে কোথাও কোথাও গেটম্যান না থাকা, পথচারী ও যানবাহনের চালকদের অসচেতনতা, সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা ইত্যাদি দায়ী। এসব ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও সচেতন হতে হবে।