নির্বাচনি ইশতেহার প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পৃক্ততা থাকে না: সিপিডি

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির প্রক্রিয়ায় জনগণের কোনও সম্পৃক্ততা থাকে না বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)।

শনিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর লেক শোর হোটেলে সিপিডির নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা এমন অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন সভাপতিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে সিপিডি পরিচালিত ‘জাতীয় উন্নয়নে অঙ্গীকার: শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান, জেন্ডার সমতা’ শীর্ষক প্রকল্পের ফলাফল তুলে ধরা হয়। এই প্রকল্পে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০১৮ সালে করা নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান ও লিঙ্গসমতাসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ওই ইশতেহার নিয়ে জনগণের মনোভাব জানতে ১৫টি জেলায় ৯০টি উঠান বৈঠকের আয়োজন করেছিল সিপিডি। এসব বৈঠকে ৯১৮ জন অংশ নেন। এ ছাড়া রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামে আঞ্চলিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ওই সব সম্মেলনে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।299213591_1386229591786230_7972598651349119748_n

নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, জনগণ তাদের চাওয়া-পাওয়া সরকারের কাছে তুলে ধরার উপযুক্ত মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছে না। নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণ তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে পারলেও নির্বাচনের পর সে সুযোগ কমে গেছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডি জানায়, বেশির ভাগ মানুষ বলেছেন, তারা নিজেদের চাহিদা বা দাবি সরাসরি বা লিখিত আকারে প্রার্থীদের জানাতে পারেননি। তবে কেউ কেউ সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন। পাশাপাশি মানুষ শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জনগণকে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে ঋণসংক্রান্ত জটিলতা দূরীকরণ, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করে নারীদের কাজের সুযোগ বাড়াতে শহর ও গ্রামে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, তৃণমূলের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা মতামতের মিল খুঁজে পাননি তিনি। জনপ্রতিনিধিরা দলের নির্বাচনি ইশতেহারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে একধরনের মৌখিক অঙ্গীকার করেন। জনগণ সবচেয়ে বেশি চান সামাজিক ভাতা কার্ড, খাবার পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট ও একটি ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ। আগে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখন সেটি নেই।

সম্মেলনে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ, বেসরকারি সংস্থা ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বক্তৃতা করেন। এসময় সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ, অ্যারোমা দত্ত, আবদুল আজিজ, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবির, সিপিডির গবেষণা ফেলো সৈয়দ ইউসুফ সাদাত উপস্থিত থেকে মতামত ব্যক্ত করেন।

সিপিডির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে ছিল— ২০২১ সালের আগে মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, ২০২০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)’ অর্জন, ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ, ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা’ বা ডেলটা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া। এ ছাড়া ইশতেহারে ৩৩টি খাতে জোর দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।