‘মানুষ মরলে গালি খায় সরকার, আপনাদের তো কোনও অসুবিধা নেই’

রাজধানীর উত্তরায় বিআরটি প্রকল্পের গার্ডারের চাপায় পড়ে পাঁচ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রকল্পটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামকে উদ্দেশ করে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘মানুষ মরলেতো গালি খায় সরকার, আপনাদের তো কোনও অসুবিধা নেই।’

মঙ্গলবার (১৬ আগস্ট) উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে এমন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এসময় প্রাণহানির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন মেয়র।

পরিদর্শন এসে মেয়র দেখেন, বিআরটি-র যে রাস্তাটি গাজীপুর থেকে এসেছে সেই বাস করিডোরটি দুই পাশের মূল সড়কের চেয়ে ১৫ ইঞ্চি উঁচু। উপস্থিত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরাও অভিযোগ করেন মূল করিডোরে ওঠা গাড়ি নামতে গিয়ে প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসময় মেয়র আতিকুল ইসলামের সামনেই একটি মোটরসাইকেল মূল করিডোর দিয়ে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। মোটরসাইকেলটিকে দেখিয়ে মেয়র বিআরটি-র এমডি শফিকুল ইসলামকে বলেন, ‘বিআরটি করিডোর মূল সড়কের সমান উচু বা একটু নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে কী সমস্যা হতো। মানুষ মরলে তো আপনাদের কোনও সমস্যা নাই। মানুষ মরলে গালি খায় সরকার।’

মেয়র আতিক (1)

এ ঘটনায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন মেয়র। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এই ধরনের দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আগামী বৃহস্পতিবার আপনারা আমাদের সঙ্গে বসবেন। সড়ক নিরাপত্তার জন্য আপনাদের করণীয় কী কী সেগুলো দেখাবেন, আমরা দেখবো। সেগুলো নিশ্চিত হওয়ার পরে আপনাদের কাজ করতে দেওয়া হবে।’

উত্তর সিটির মেয়র বলেন, ‘আমার একটাই কথা আগামী বৃহস্পতিবার ১১টায় নগরভবনে আসবেন। যে যে কমপ্লায়েন্স মানার কথা, সেগুলো দেখাবেন। কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার পর সড়কে কাজ করা যাবে। কোথাও একটু সিমেন্ট পড়ে যাবে, কোথাও রড পড়ে যাবে, তখন আবার প্রাণহানি হবে সেটা হতে পারে না। যে কোম্পানি এই কাজের চুক্তি করেছে, তারা সব শর্ত মেনেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সরকার এসবের পেছনে টাকা দিচ্ছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে খামখেয়ালি। গত বৃহস্পতিবার সব প্রকল্পের পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকতের ডেকেছিলাম। বলেছিলাম যেন জনদুর্ভোগ না হয়, যেন কোনও দুর্ঘটনা না হয়। আমি নিজে বলেছি।’

দুর্ঘটনার পরে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ওই কমিটি কারিগরি যেসব ক্রটিগুলো বেরিয়ে আসবে। সেগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আমার প্রশ্ন ভিন্ন। এখানে যেসব কমপ্লায়েন্স মেনে কাজ করার কথা সেগুলো কি মানা হচ্ছে? এখানে সবচেয়ে বড় কমপ্লায়েন্স হওয়ার কথা ওয়ার্ক প্লেস সেফটি। অর্থাৎ কাজের জায়গার নিরাপত্তা।’

মেয়র আতিক (2)

এখানে কাজের জায়গার নিরাপত্তা রয়েছে বা মানা হচ্ছে, এমন কিছু দেখতে পাননি বলে উল্লেখ করেন মেয়র। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘যেমন, এখানে কোনো সাইনবোর্ড পর্যন্ত লেখা নেই যে, এখানে বা এদিকে কাজ চলছে। রাস্তা কোথায় বেরিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া, কিছুই নেই। যেখানে পুলিশও বলছে, তাঁদের গতকাল কাজের বিষয়ে কিছুই ইনফর্ম করা হয়নি।’

মেয়র বলেন, ‘উপরে ওয়েলডিংয়ের কাজ করছেন। আগুনের স্ফুলিঙ্গ নিচে ছিটকে পড়ছে। কোনো নিরাপত্তা নেই। এখানে যে রাস্তাগুলো করে দিয়েছেন, একটি রাস্তা থেকে আরেকটি রাস্তার উচ্চতা সমান নয়। উচ্চতার পার্থক্য প্রায় ১২ ইঞ্চির মতো।’

গতকালকের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দুর্ঘটনা এড়ানো যেতো। যদি কাজের কমপ্লায়েন্স মানা হতো। এখানে কাজের শর্তাবলির কোনও কিছু মানা হচ্ছে না, নাথিং। এখানে জবাবদিহিতার কিছুই নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘যে ক্রেন চালাচ্ছিল, তার কি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে কি না, ক্রেন ক্রটিমুক্ত ছিল কি না, ক্রেন ক্র্যাশ করলে, পেছনে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য অন্য ক্রেন প্রস্তুত ছিল কিনা, অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা ছিল কিনা, এসব কমপ্লায়েন্সে থাকার কথা।'