চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে দোষীদের শাস্তিসহ ৮ দফা দাবি হোটেল শ্রমিকদের

রাজধানীর চকবাজারের বরিশাল হোটেলে অগ্নিদগ্ধে ছয় শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সকল দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশন। এছাড়াও নিহত প্রত্যেক শ্রমিক পরিবারকে তাদের (নিহতদের) আজীবন আয়ের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসব দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সংগঠনটির শ্রমিকদের স্বার্থ সংবলিত ৮ দফা দাবিগুলো হলো- ‘প্রতিষ্ঠান আইন’ যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে এবং অনিয়ম দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে; শ্রমিক ও তার পরিবারের নিশ্চয়তার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করতে হবে; শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসনব্যবস্থাসহ তাদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বিধি অনুযায়ী নিয়োগপত্র-পরিচয়পত্র প্রদানসহ শ্রম আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।

এছাড়া, শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যে পর্যাপ্ত রেশনিং ব্যবস্থা চালু ও ৭০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা প্রদান; হোটেল সেক্টরে মজুরি বোর্ড গঠন করে নিম্নতম মজুরি ঘোষণা এবং ছাঁটাই-নির্যাতন বন্ধ, শ্রম আইন স্বীকৃত সকল অধিকার-সুবিধা শ্রমিকদের প্রদান করারও দাবি জানান তারা।

সংগঠনটির সভাপতি আব্দুল খালেক বলেন, ‘শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তাসহ নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চয়তার বিষয়ে হোটেল শ্রমিক ফেডারেশন দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও কোনও কর্তৃপক্ষই তাতে সাড়া দেয়নি। আর এ কারণেই আজকের এই পরিণতি। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এই মৃত্যু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এটি একটি অবহেলাজনিত হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট মালিকসহ প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও অনুমোদনের সঙ্গে যারা জড়িত সকলেই এই হত্যার জন্য দায়ী।’

তিনি আরও বলেন, দেশের হোটেল শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ খাতে প্রায় ৩০ লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত এবং তাদের উপর নির্ভরশীল রয়েছে তাদের পরিবার। অথচ এ খাতের মালিকদের শুধু মুনাফা কেন্দ্রিক চিন্তা-ভাবনা এবং শ্রমিকদের দায়িত্ব গ্রহণ না করার মানসিকতার কারণে এ সেক্টরে কর্মরত শ্রমিকদের জীবনযাপন আজ অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে।

বাংলাদেশ হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইটমিট শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন হোটেল ও রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা।