দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নানান ধরনের অপশক্তির সমারোহ ঘটে, এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে। এ বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও যথাযথ নির্দেশনা দেওয়া উচিত।
রবিবার (২৮ আগস্ট) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ (এইচআরএফবি) আয়োজিত ‘আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব পরামর্শ দেন বক্তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) নির্বাহী পরিচালক মো. নুর খান লিটন বলেন, ‘দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের উপর নানা ধরনের হামলার ঘটনা আমরা দেখি। এর থেকে মুক্তির সবচেয়ে উপযোগী ব্যবস্থাই হচ্ছে এগুলোর বিচার হওয়া দরকার।’
তিনি বলেন, ‘আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আমরা দেখেছি নানান ধরনের শক্তির সমারোহ ঘটে, আঘাত আসে। বিশেষ করে আগামীতে নির্বাচন, সেই নির্বাচনকে সামনে রেখে এইধরনের গোষ্ঠীর নানা তৎপরতা চালাবে। সে কারণে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।‘
আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক উদ্যোগের নির্বাহী প্রধান জাকির হোসেন বলেন, ‘৭১ সালে স্বাধীনতার সময় সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছিল সংখ্যালঘুরা। তাদের অবদান লেখা হয় না, বলা হয় না। বরং এখনও তারা নির্যাতিত হচ্ছে। একটা সমাজ কতটা সভ্য— তা বোঝা যায় সে দেশে সংখ্যালঘুরা কতটা ভালো আছে, তা দেখে।’
স্টেপস টুওয়ার্ডস ডেভলাপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার বলেন, ‘দুর্গাপূজায় এই পর্যন্ত যত হামলা হয়েছে— তা পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, সেখানে একটা রাজনৈতিক রূপ রয়েছে। যারা অসাম্প্রদায়িক অবস্থা সৃষ্টি করতে চায়। এসব হামলায় জড়িতদের সাময়িক গ্রেফতার করলেও যথাযথ বিচার হয় না।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্লাস্টের আইন উপদেষ্টা এস এম রেজাউল করিম, এইচআরএফবি-এর সদস্য শামসুল হুদা প্রমুখ।