হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে প্রয়োজনে ডাক্তারি পরীক্ষা

হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে ডাক্তারি পরীক্ষার বিষয়ে সমাজকল্যাণ সচিবকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দলিত হিজড়া ও অন্যান্য মূলধারাবহির্ভূত সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের অধিকার সংরক্ষণ সংক্রান্ত কমিটির উপপরিচালক ও সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম এ চিঠি পাঠান।

গত ১১ আগস্ট কমিশনের কমিটির এক সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চিঠিটি দেওয়া হয় বলে গত মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) জানিয়েছে সংস্থাটি।

চিঠিতে বলা হয়, হিজড়া শনাক্তকরণে ডাক্তারি পরীক্ষা-সংক্রান্ত সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারের পর দুটি বেসরকারি সংস্থা ডাক্তারি পরীক্ষা বন্ধের বিষয়ে কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি দিয়েছে।

গত ১১ আগস্ট মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে দলিত, হিজড়া ও অন্যান্য মূলধারা থেকে বঞ্চিত সংখ্যালঘু ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষা সংক্রান্ত কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য অ্যারমা দত্তসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি মনে করে, ডাক্তারি পরীক্ষার নামে হিজড়া লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে অত্যন্ত অসম্মানজনক আচরণ করা হয় এবং অনেক সময় হিজড়ার নামে যে হয়রানি করা হয়, তা যৌন নির্যাতনের শামিল। যেহেতু কোনও নারী বা পুরুষের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনও মেডিকেল পরীক্ষা করতে হয় না, তাদের আত্মপরিচয়ই যথেষ্ট, সেহেতু হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণেও মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন নেই।

তবে কোনও হিজড়া ব্যক্তির আচার-আচরণ দেখে যদি সন্দেহ হয় যে ওই ব্যক্তি হিজড়া না হয়েও সুবিধা ভোগ করার জন্য নিজেকে হিজড়া পরিচয় দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কোনও লিঙ্গ বিশেষজ্ঞ ও মনস্তত্ত্ববিদের উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল হাসপাতালের চিকিৎসক দ্বারা ওই ব্যক্তির লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করা যেতে পারে বলেও জানায় কমিটি।

এ অবস্থায় হিজড়াদের লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণে ডাক্তারি পরীক্ষা বন্ধ করা এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ, মনস্তত্ত্ববিদ ও চিকিৎসক দ্বারা ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করে তারা।