চুরির মামলায় কয়েক মাস জেল খেটে গত ১৭ আগস্ট বের হয় মো. সোহেল। বের হয়েই চোরচক্রের অন্য সদস্যদের নিয়ে রেকি করে রাখা একটি বাসায় চুরি করে সে। ২০ আগস্ট রাজধানীর কলাবাগানের সেই বাসার গ্রিল কেটে তারা চুরি করে ৭২ ভরি স্বর্ণ এবং ১ লাখ টাকা। চোরচক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য জানা যায়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের নিউমার্কেট জোনের কর্মকর্তাদের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ বলছে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তৎপর রয়েছে বাসা-বাড়িতে চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতির সাথে জড়িত একাধিক চক্র। এই চক্রের সদস্যরা কয়েক ধাপে বিভক্ত হয়ে চুরি-ছিনতাইয়ে পরিকল্পনা করে। পরে সেই বাসা-বাড়ি কিংবা দোকানপাটে চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতিতে অংশ নেয়। মূলত তিন ধাপে সক্রিয় রয়েছে এসব চক্র।
পুলিশ বলছে, মূলত তিনটি ধাপে রাজধানীতে চোরচক্রের সদস্যরা কাজ করে থাকে। চক্রের সদস্যরা প্রথমে রেকি করে সেই বাড়ির অবস্থান ও বিভিন্ন বিষয়ের খোঁজ-খবর নেয়। দ্বিতীয় ধাপে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সময়-সুযোগ বুঝে সেই জায়গায় হানা দেয়। তৃতীয় ধাপে সুবিধামতো স্থানে গিয়ে চুরি করা জিনিসপত্র বিক্রি করে টাকা ভাগাভাগি করে। এসব চক্রের সদস্য সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন। দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকার অলিগলিতে ঘুরে সবজি বিক্রির ছলে তারা চুরির জন্য জায়গা নির্বাচন ও রেকি করে থাকে।
অভিযান পরিচালনাকারী ডিএমপির নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার চারজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। গত ২০ আগস্ট যে বাসায় তারা চুরি করে তার দুদিন আগে চক্রের অন্যতম সদস্য সোহেল জেল থেকে ছাড়া পায়। একাধিকবার কারা ভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে তারা একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে চুরি করার স্বর্ণ তারা রাজধানীর তাঁতিবাজারসহ বিভিন্ন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে। কেউ যেন চিনতে না পারে সেজন্য স্বর্ণ গলিয়ে ফেলে তারা। পরে সেগুলো তারা পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে।
সম্প্রতি চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণে ডিএমপি সদর দফতর থেকে রাজধানীর ৫০টি থানায় চুরির মামলা তদন্তে আরও গতিশীলতা বাড়াতে এবং চোর ধরতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গত ২০ আগস্ট কলাবাগান লেক সার্কাস ডলফিন রোডে একটি ভবনের দোতালায় গ্রিল কেটে ৭২ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীর কলাবাগান এবং আদাবর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রের ৪ সদস্যকে গত সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিদেশি পিস্তল, গুলি। মো. সোহেল, মো. ফরহাদ, মো. ইলিয়াচ শেখ ও মো. আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আনোয়ার।
এ ধরনের চোরচক্রের কাছে বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় কিছুটা উদ্বিগ্ন পুলিশও। প্রাথমিকভাবে এসব বিদেশি পিস্তলের বিষয়ে পুলিশকে কোনও তথ্য না দিলেও রিমান্ডে এনে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে এসব অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে জানা যাবে বলছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে, চুরি, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করতে গিয়ে ভয়-ভীতি দেখানো, জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিতে এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আসছিল তারা। কেউ বাধা দিলে এসব অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতো।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. শহিদুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিভিন্ন পেশার আড়ালে এসব চোর ও ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন বাসা বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। বাসা-বাড়ি থেকে চুরি করা স্বর্ণ বেচা-কেনার সাথে জড়িত অনেকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদেরকে শনাক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।