‘দুর্যোগ থেকে বাঁচতে নিয়মিত নদী খনন প্রয়োজন’

নদীর নব্যতা বাড়িয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানির সহজলভ্যতা বাড়াতে, নদীর ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষার্থে এবং বন্যা, খরার মতো দুর্যোগগুলো থেকে বাঁচতে দেশের নদীগুলোর নিয়মিত খনন প্রয়োজন। একইসঙ্গে প্রয়োজন নদীকে পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত রাখা।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ‘বাংলাদেশে নদী খননের প্রয়োজনীয়তা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ বিষয়ক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ওয়েবিনারের আয়োজন করে এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড। অনুষ্ঠানে নদী খননের প্রয়োজনীয়তা, চ্যালেঞ্জ এবং উত্তরণের উপায় নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ড্রেজিং) রকিবুল ইসলাম তালুকদার বলেন,  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। যার মাধ্যমে নৌ পরিবহন সেক্টরের উন্নয়ন, এই সেক্টরে কর্মসংস্থান সুযোগ বৃদ্ধি এবং পণ্য আমদানি রফতানির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী।

এনার্জিপ্যাক পাওয়ার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হুমায়ুন রশিদ বলেন, নদী আমাদের মা। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা ময়লা, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন আবর্জনা নদীতে ফেলে প্রতিনিয়ত দূষণ করে চলেছি। তাই এই বিষয়ে, জনসচেতনতা প্রয়োজন। দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড প্রতি মাসেই নদী পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবং আমরা আশাবাদী আমাদের এই উদ্যোগ অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ড্রেজিং ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক মো. রুহুল কুদ্দুস, নৌ পরিবহন অধিদফতরের প্রকৌশল ও জাহাজ জরিপ কারক এবং অভ্যন্তরীণ নৌ-যান রেজিস্টার মো. সিরাজুল ইসলাম  এবং এনার্জিপ্যাকের চিফ বিজনেস অফিসার মো. মাসুম পারভেজ।

বক্তারা নদী খনন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, অটোমেশন এবং ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেন। এছাড়া, নদী খনন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এবং নদী খননের সমস্ত প্রক্রিয়াটি যেন সময়মতো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় সেই বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

ওয়েবিনারে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। এই দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে নদী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নদী বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগের সবচেয়ে সহজলভ্য মাধ্যম। যদিও দেশের অধিকাংশ নদ-নদীর নাব্যতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবার কারণে বর্তমানে সাড়ে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতেই তলিয়ে যাচ্ছে অধিকাংশ অঞ্চল। তাই নদী খননের মাধ্যমে নদী খালের নাব্যতা পুনরুদ্ধারসহ নদীতে অব্যাহত ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌপথ সচল করার উপর তাগিদ দেন অংশগ্রহণকারী বক্তারা।