‘বিএনপি স্ট্রাকচারাল পলিটিক্স থেকে গসিপ পলিটিক্সে চলে গেছে’

‘বিএনপি স্ট্রাকচারাল পলিটিক্স থেকে গসিপ পলিটিক্সে চলে গেছে। মানুষকে গুজব-মিথ্যা-গিবত দিয়ে বোঝানোর যে চেষ্টা। তারা সেটা এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, দে বিকাম প্যাথলজিক্যাল লায়ার।’

‘মানবাধিকার কারবারিদের রাজনীতি- সাংবাদিকতার আড়ালে তথ্যসন্ত্রাস’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন সাংবাদিক ও ব্লগার অমি রহমান পিয়াল। শনিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯টায় ফেসবুক লাইভে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি প্রধান, পলিসি পরামর্শক ও লেখক সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর, আশিক অমি, আহমেদ আজাদসহ প্রশ্ন করার জন্য আরও বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী। আলোচনা সভায় আমেরিকার অভ্যন্তরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বেশ কয়েকটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।

অমি রহমান পিয়াল বলেন, মানবাধিকারের রাজনীতিটা আমেরিকার ফরেন পলিসির একটা পলিটিকাল টুল। তারা এটাকে একটা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যে দেশগুলোতে তারা দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেটা তাদের পছন্দের-মেরুদণ্ডহীন শাসকগোষ্ঠী হোক আর যাই হোক সেখানে চাপ দিয়ে হোক বা ভয় দেখিয়ে হোক—দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা তা করছে। জাতিসংঘ যে ৭৬ জনের লিস্ট প্রকাশ করেছে তা আসলেই ভেরিফাইড বা ভেরিফিকেশন না করেই করেছে। প্রকৃত অর্থে মানবাধিকার তো তাদের (আমেরিকা) নিজের দেশেই নেই।

তারা ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরের কাল্পনিক একটা তথ্য দিলো, হাজার হাজার মানুষ মারা গেছে ওয়েবসাইটে দিলো, তারপরে সেটার একটা তালিকা দিলো ৬৩ জনের। তারপরে সেটা আর তারা চেঞ্জ করলো না। এই জিনিসগুলো তারা একা করে না। তাদের সহযোগী হচ্ছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ( আমেরিকাতে), অ্যামনেস্টি ( ইউকেতে)। এদের সহযোগিতায় তথ্যপ্রকাশ করে সেটাকে আবার তারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পত্রিকায় প্রকাশ করে।

বিএনপি সারাদেশে পুলিশের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। তাদের একটা লাশ দরকার পলিটিকালি ডিস্টেবল করতে হলে। আন্দোলন তো আমরা আগেও দেখেছি—পুলিশের ওপর হামলা করতে দেখিনি। তারপর ভিডিওতে দেখা গেলো নিজেদের কর্মী ইটের আঘাতে মারা গেছে। পুলিশ গুলি ছুড়লে রাবার বুলেট ছুঁড়ে। এরা ইটের আঘাতে মারা যাচ্ছে। আসলে এই ডিজিটাল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুবিধাটা নিচ্ছে বিএনপি-জামাত।

মাদ্রাসাগুলো কী নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বা এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করলে কী মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে সুফি ফারুক ইবনে আবু বকর বলেন, ওয়াজ-পার্টি ভীষণ সুবিধাবাদী। যারা নাস্তিক না— এরা তাদেরও নাস্তিক বানায় এবং তাদের কল্লা চায়। যে হাদিস নিয়ে এরা খুব বেশি লাফালাফি করে আপনি যখন তাদের কলার ধরবেন তখন এরা বলবে—এটা জাল হাদিস বা এটা উইক হাদিস। এই সমস্ত আগডুম-বাগডুম। এত বড় একটা আন্দোলন এরা কিন্তু একটা দুর্বল হাদিসের ওপর ভিত্তি করে করেছে। যখন যেটা সুবিধা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে সেই কাজটা করে। এই হাদিস তারা আমল করার জন্য বলবে কিন্তু তারা হিজরত করবে না। এদের পাকিস্তান বা আফগানিস্তানে হিজরত করা উচিত। তারপর ওখান থেকে তাদের জিহাদটা শুরু করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সাধারণ মানুষকে যেই পলিটিক্সটা অফার করার কথা ছিল—সেটা করতে পারেনি। যে কারণে বিএনপি'র এখন উঠান বাঁকা—তারা বলে মানবাধিকার নাই। যেটা এখন ইস্যু না বিএনপি সেটাকে ইস্যু করে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। মূলত বিএনপি একটা মিনিংফুল পলিটিক্স মানুষকে অফার করতে পারেনি। মানুষের সাথে থাকতে পারেনি। বিএনপি টকশোতে এসে বলে তারা নাকি কথা বলতে পারছে না। অথচ সেটা তারা টকশোতে এসেই বলে। বিদেশি পত্রিকাতে অনলাইনে দেশে বসেই সাক্ষাৎকার দেয় বিএনপি অথচ আবার বলে তাদের নাকি কণ্ঠরুদ্ধ। তারা সরকারের নামে শত মিথ্যাচার করে দাবি করে তারা নাকি কণ্ঠরুদ্ধ। টকশোতে তাদের বেশি সময় দেওয়া হলেও তারা বলে তাদের সময় দেওয়া হয়নি। এমন মিথ্যাচারের মধ্য দিয়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে— বলেন অমি রহমান পিয়াল।