একদিনের নরওয়ের প্রতীকী রাষ্ট্রদূত বৈশাখী আক্তার

‘সমান সুযোগ পেলে মেয়েরা পারে না, এমন কোনও দায়িত্ব নেই’

একদিনের জন্য আজ মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) প্রতীকীভাবে বাংলাদেশে নরওয়ে রাষ্ট্রদূতের পদ গ্রহণ করেন ধলপুরে শিশু ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক বৈশাখী আক্তার। পদ গ্রহণকালে তিনি বলেন, সমান সুযোগ পেলে মেয়েরা পালন করতে পারে না, এমন কোনও দায়িত্ব নেই। দেশের সব কিশোরী ও যুবনারী যেন পায় সমান অধিকার, সমান সুযোগ।

আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২২ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজক প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সংস্থাটির ‘গার্লস টেকওভার’ নামক এক বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচির অংশ এই পদ গ্রহণ। প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ‘মেয়ে আমি সমানে সমান’ ক্যাম্পেইনের আওতায় এই আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো কিশোরী ও যুবনারীদের সক্ষমতা তৈরি ও নেতৃত্ব বিকাশে বিশ্বব্যাপী আওয়াজ তোলা।Image2

এই বছর প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ মাসজুড়েই প্রায় ৪০টির বেশি টেকওভারের আয়োজন করেছে—যেখানে দেশের নানা প্রান্তের মেয়েরা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক, সরকারি- নানা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদ একদিনের জন্য প্রতীকীভাবে গ্রহণ করবেন।

প্রতীকী দায়িত্ব পালন করে বৈশাখী আক্তার তার ইচ্ছা প্রকাশ করে জানান, “সমান সুযোগ পেলে মেয়েরা পালন করতে পারে না, এমন কোনও দায়িত্ব নেই। সুবিধাবঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের জেন্ডার সমতার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে, যেন তারা মেয়েদের অধিকার, ক্ষতিকর লিঙ্গভিত্তিক আচার ও বৈষম্য সম্পর্কে সচেতন হতে পারে।”

বৈশাখী প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর একজন গ্র্যাজুয়েট স্পন্সর শিশু। নেতৃত্বের গুণাবলির মাধ্যমে বৈশাখী তার কমিউনিটিতে নারী ও পুরুষ সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী কমিউনিটির বিরুদ্ধে বিরূপ মনোভাব দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছেন। সেইসাথে কমিউনিটির অভিভাবকদের সঙ্গে কন্যাশিশুদের উচ্চতর পড়াশোনায় এগিয়ে নিতেও অ্যাডভোকেসি চালিয়ে যাচ্ছেন বৈশাখী। Image3

বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এসপেন রিকটার-ভেন্ডসেন বলেন, “সিভিল সোসাইটির দীর্ঘকালীন এবং চলমান অ্যাডভোকেসি ছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জেন্ডার সমতা বিষয়ক নরওয়ের কাজের ফলাফল অর্জন করা সম্ভব হতো না। আর এ কারণেই বিশ্বব্যাপী প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল-এর সঙ্গে নরওয়ের দূতাবাসগুলো একসাথে কাজ করে চলেছে, যাতে এই বিশেষ দিনে মেয়ে এবং যুব নারীরা একটি বিশেষ প্ল্যাটফর্ম পায় নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার জন্য। মেয়েদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য দূর করতে আমাদের মেয়েদের নেতৃত্ব, সংগঠন ও চিন্তা চেতনার বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।”