সুফিবাদ শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

সুফিবাদ জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে একত্রিত করে বিশ্বে শান্তিসমাজ গড়ে তুলছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বুধবার (১২ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু-তে আয়োজিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সুফি ইউনিটি ফর ইন্টারন্যাশনাল সলিডারিটি (এসইউএফআইএস) এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুফিবাদ আমাদের সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং সারা বিশ্বে শান্তি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফ ব্যাপক অবদান রাখছে।

ড. শামসুল আলম বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমাদের অন্যের অধিকার, বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে। শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে উন্নয়ন টেকসই হবে না। একে অপরকে সম্মান করতে হবে। সবাই এক সঙ্গে মিলে মিশে বসবাস করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে রোল মডেল। সারা পৃথিবীতে শান্তির বার্তা নিয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমৃদ্ধ অর্থনীতি গড়ার মধ্য দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন।

সভাপতির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সুফি ঐক্য সংহতি (সুফিজের)  চেয়ারম্যান শাহ্সূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল্-হাসানী আল্ মাইজভাণ্ডারী  বলেন, সব জাতির মধ্যে সমতা, ন্যায়, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করেছে 'মদিনা সনদ'।  আজকের পৃথিবীতে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার, নিপীড়নে মানবতার করুণ আর্তনাদ চলছে। কেউ কারও কথা শুনছে না। কথায় কথায় যুদ্ধের হুমকি, যুদ্ধের উসকানি ও নিজদের আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে অমানবিক কাজের ভাগারে পরিণত করছে পৃথিবীকে। নিজেদের আধিপত্য বাজায় রাখতে মানুষ হত্যা ও সভ্যতা ধ্বংস করতেও কুণ্ঠাবোধ করছে না।  মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মাণে মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধের জাগরণ ঘটাতে হবে। প্রিয়নবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণই মানবতার করুণ বিপর্যয় থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শাহসূফী সাইয়্যিদ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী ওয়াল হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনের আহ্বায়ক শাহজাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল-হাসানী। অনুষ্ঠানে অতিথি ও আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. আফরোজ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর বিক্রম, আমেরিকান বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির ভিসি প্রফেসর ড. আতাউর রহমান মিয়াজি, গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, নোয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. ওয়াহিদুজ্জামান, তুরস্কের দারুল ইসলাম কলেজের ডীন শায়খ ড. সৈয়দ মোহাম্মদ ই এল হোসাইনী প্রমুখ।