সরেজমিনে গাউছিয়া-ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট

ক্রেতার সাড়া নেই শাড়ির দোকানে

ছুটির দিনগুলোতে বরাবরই উপচেপড়া ভিড় থাকে নিউ মার্কেট এলাকার বিপণি বিতানগুলোতে। যদিও শুক্রবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর গাউছিয়া, নুর ম্যানশন ও ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের শাড়ির দোকানগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। এদিন এসব মার্কেট ঘুরে দেখা যায়নি সবসময়ের মতো ক্রেতার ভিড়। দোকানিরা বলছেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে কিছু বেচাকেনা হলেও আবারও বেচাকেনার গতি কমে এসেছে।

দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শাড়ি আগের তুলনায় বেচা কেনা কমে গেছে। পূজায় বিক্রি ভালো থাকলেও এখন বেশিরভাগ শাড়ির দোকানগুলো ক্রেতাশূন্য। 

ক্রেতা কমার পেছনে মার্কেট বন্ধের সময়, মানুষের হাতে টাকা কমে যাওয়া ও যানজটকে দায়ী করেছেন বিক্রেতারা। তারা বলছেন, মার্কেটগুলো রাত ৮টায় বন্ধ না করে যদি সময়টা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া গেলে বেচা-কেনা ভালো হতো। প্রয়োজনে দোকান খোলার সময়ও এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া যায়। 

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটের পিনন শাড়ির দোকানের বিক্রেতা সুমন মিয়া বলেন, ‘ক্রেতা আগের চেয়ে অনেক কম। সন্ধ্যা হলে ক্রেতা কিছুটা বাড়তে থাকে। তবে জমে ওঠার আগেই রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট বন্ধ হয়ে যায়।’

শাড়ি

অবশ্য এখন নারীরা শাড়িও কম পরছেন বলে মনে করেন এই বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘আগে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সব বয়সের নারীরাই শাড়ি পরতেন। এখন সেটাও কমে গেছে। শুধু উৎসবকে কেন্দ্র করে ক্রেতারা কিনতে আসেন। এছাড়া বিয়ের কেনাকাটা করার জন্য ক্রেতাদের দেখা যায় শাড়ির দোকানে।’

নিউমার্কেট এলাকায় জ্যামের কারণেও ক্রেতা কমে গেছে বলে মনে করেন বিক্রেতারা। হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা আজিজুর রহমান বলেন, ইদানীং এই এলাকায় যানজট অত্যধিক বেড়েছে। একারণে খুব একটা প্রয়োজন না হলে লোকজন আসতে চান না। এটাও বিক্রি কমার অন্যতম কারণ।

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াও শাড়ি কম কেনার কারণ বলে মনে করেন দোকানদাররা। করোনা মহামারিতে নিম্ন আয়ের মানুষ অর্থর সংকটে পড়েছেন; যারা শাড়ি ক্রেতাদের বড় অংশ, বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, করোনা মহামারির পর থেকেই মানুষ হিসাব করে কাপড় কেনাকাটা করছেন। শাড়ি নিত্যপ্রয়োজনীয় না হওয়ায় অপ্রয়োজনে এগুলো কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

তবে দোকানে বেচাকেনা কমলেও অনেকেই অনলাইনে পণ্য বিক্রি করছেন। অনেক দোকানেরই ইউটিউব, ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে চ্যানেল ও পেজ আছে। এগুলোতে নিয়মিত লাইভ করে পণ্য দেখান বিক্রেতারা। অনলাইনে দেখে অনেকেই সেখানে অর্ডার করেন। তবে অধিকাংশ দোকানদার সেই দৌড়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছেন। এতে করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

শাড়ির দোকান (2)

এই এলাকার দোকানগুলোতে প্রকারভেদে জামদানি, সুতি, সিল্কসহ বিভিন্ন ধরনের শাড়ি পাওয়া যায়। পুঁতি বসানো শাড়িও পাওয়া যায়। দেশি জামদানি শাড়ির বিক্রি একেবারে নেই বললেই চলে। দেশীয় জামদানির বাজার দখল করেছে ভারতীয় জামদানি শাড়ি। তুলনামূলকভাবে ভারতীয় জামদানির দাম কম হওয়ায় সেগুলোতেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

দোকানগুলোতে দেখা যায়, এখন গায়ে হলুদের শাড়ি তুলনামূলক বেশি বিক্রি হয়। আর যাকাতের জন্য একধরনের নিম্নমানের শাড়ি একসময় অনেক বিক্রি হলেও সেগুলোর প্রচলন নেই। মৌসুম উপলক্ষে কিছু বিক্রি হয়। দোকানভেদে শাড়ির দাম ৩০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা দামের শাড়ি পাওয়া যায়। তবে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দামের শাড়ি বেশি বিক্রি হয়।

বিক্রি কমলেও আগের তুলনায় শাড়ির দাম বেড়েছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, শাড়ি উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। সুতা, রঙ, পরিবহন খরচ, মজুরি খরচসহ নানা কারণে আগের চেয়ে শাড়ির দাম কিছুটা বাড়তি।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে পরিবারসহ শাড়ি কিনতে এসেছেন রোকাসানা রহমান (৪০)। শাড়ির দাম তুলনামূলক একটু বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা করার কারণে আমি বরাবরই শাড়ি পরি। আজকে নিজের পাশাপাশি মেয়ের জন্যও শাড়ি কিনতে এসেছি। দাম আগের তুলনায় বেশ বেড়েছে। মেয়ের ভাইভা পরীক্ষা কারণে শাড়ি নিতেই হচ্ছে।’

শাড়ির দোকান (1)

বাজারের সব কিছুর দাম বৃদ্ধির কারণে আগের তুলনায় শাড়ি কেনা কমিয়ে দিয়েছেন  রাজধানীর একটি সরকারি স্কুলের এই শিক্ষক। তিনি বলেন, ‘আগে যেখানে মার্কেটে এলেই কয়েকটি শাড়ি কেনা হতো। এখন তার তুলনায় কমই কেনা হয়।’ দামদরে মিললে শাশুড়ি ও মায়ের জন্যও শাড়ি কিনবেন বলেও জানালেন তিনি।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও গাউছিয়া মার্কেটের দোকান মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেটে গুদামসহ প্রায় ২০০টির মতো শাড়ির দোকান রয়েছে। অপরদিকে গাউছিয়া মার্কেটে প্রায় ৫০০-এর মতো শাড়ির দোকান রয়েছে।