ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী অংশের যানজটের চাপ এসে পড়ে রাজধানীর বনানী পর্যন্ত। বুধবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে শুরু হয় এই নাকাল অবস্থা। যদিও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে যানবাহনের চাপ কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে। দুপুরের দিকে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বিমানবন্দর সড়কে। কিন্তু গাজীপুরের মিল গেট ও মুন্নু গেট এলাকার ১৮৭ মিটার রাস্তা প্রতিদিনই ভোগাচ্ছে ঢাকা ও গাজীপুরকে।
বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগর উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার বদরুল হাসান স্বস্তির বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে বিআরটি প্রকল্পের কাজ চলায় রাস্তায় খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। আর গত দুদিন টানা বৃষ্টি হওয়ায় সেটা এখন দুভোর্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
অতিরিক্ত উপকমিশনার বলেন, ‘সকালে এই রোডে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা স্বাবাভিক হয়েছে। তবে এখনও যানজট আছে। আমাদের সব টিম রাস্তায় আছে, কাজ চলছে। কিন্তু মূল কথা হলো, গাজীপুরে সমস্যা হওয়ায় এটা হচ্ছে। ওই রাস্তা যত তাড়াতাড়ি পরিষ্কার হবে, বিমানবন্দর সড়কের চাপ তত কমবে।’
আব্দুল্লাহপুর ট্রাফিক পুলিশ বক্সে দায়িত্বরত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে গত সোমবার দিনব্যাপী বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের গর্তে পানি জমে গেছে। ফলে চলাচলরত যানবাহনের চাকা ওইসব গর্তে পড়ে গর্ত আরও বড় হয়েছে। এতেই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।’
বিমানবন্দর ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়ির একজন কর্মকর্তা জানান, টঙ্গী ও গাজীপুর চৌরাস্তা দিয়ে গাড়ি না টানলে এ সমস্যার শেষ হবে না। কারণ, বিমানবন্দর থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের কাজ চললেও রাস্তার অবস্থা একেবারে খারাপ হয়ে যায়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে গাজীপুরের ওই দিকটাতে।
ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তার কথার সত্যতা পাওয়া গেলো গাজীপুর ট্রাফিক পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সঙ্গে কথা বলে। তিনি বলেন, ‘গাজীপুরের মিল গেট ও মুন্নু গেট এলাকায় এখনও স্থায়ীভাবে কাজ হয়নি। এছাড়া সিত্রাংয়ের প্রভাবে ভোগান্তি আরও বেড়েছে। মিল গেট ও মুন্নু গেট বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। পরে কিছুটা কাজ করে গাড়ি চলাচলের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে আজকে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে আরও দূভোর্গের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গাজীপুরের মিল গেট ও মুন্নু গেট এলাকার ১৮৭ মিটার রাস্তা পুরো গাজীপুরবাসীকে ভোগাচ্ছে। এই রাস্তায় চলাচলকারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এটার স্থায়ী সমাধানের জন্য অনেক জায়গায় বলা হলেও এখনও সমাধান হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘রাস্তার এই দুভোর্গ নিয়ে আজকেও প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আমরা মিটিংয়ে বসেছি। পুলিশের পক্ষ থেকে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন— ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটার স্থায়ী সমাধান করে দেবেন। এখন দেখা যাক, তারা কতটুকু করে দেন।’
তিনি জানান, সকাল থেকে কোনও যানবাহনই এগোচ্ছিল না। পরে বেলা ১১টার দিকে যানবাহনের চাপ আরও বাড়ে। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকা থেকে গাজীপুর এবং গাজীপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীরা।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রাইভেটকার চালক শাহিন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত ৪টার দিকে গাজীপুরের উদ্দেশে বের হয়েছি। কিন্তু বিমনাবন্দর পার হয়েই যানজটে পড়ি। রাস্তা খারাপ থাকায় সবাই আস্তে আস্তে পার হচ্ছিল। সকাল ৮টায় গাজীপুর থেকে ফিরে আসার সময় চৌরাস্তা পার হয়ে দেখি ভয়াবহ অবস্থা। যানজট ঠেলে সাড়ে ১১টার দিকে মতিঝিল এসে পৌঁছেছি।’
বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক মহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সড়কের স্থায়ী নির্মাণ কাজ চলছে। নভেম্বরের দিকে কাজ শেষ হলে আর ভোগান্তি থাকবে না। যেখানে বেশি ভাঙা, সেখানে মেরামত করছি। বৃষ্টির কারণে আবার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় স্থায়ী কাজ করা হচ্ছে।