‘মেজর, এসপি, র‌্যাব কর্মকর্তা’ সবই তিনি!

ইলিয়াস হোসেন (৫১)। পেশায় প্রতারক। কখনও তিনি সেনাবাহিনীর মেজর, কখনও পুলিশ সুপার, কখনও বা র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। বুধবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানী যাত্রাবাড়ী এলাকায় থেকে এই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০। বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় র‌্যাব-১০ স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এনায়েত কবির সোয়েব এ তথ্য জানান।

এএসপি এনায়েত কবির সোয়েব জানান, ভুয়া র‌্যাব ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া গ্রেফতার প্রতারকের নাম ইলিয়াস। তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ইলিয়াসের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার লাকসামে। স্ত্রী আর পাঁচ সন্তান নিয়ে থাকে ঢাকার ধলপুরে। নির্দিষ্ট কোনও পেশা নেই। সকালে বাসা থেকে বের হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন লোকজনের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন ইলিয়াস। তার নামে প্রায় শতাধিক প্রতারণার অভিযোগ আছে বলে জানিয়েছে এই কর্মকর্তা।

তিনি বিভিন্ন পিকআপ, মিনি-ট্রাক ও ট্রাকচালকদের কাছ ফোন করে নিজেকে কখনও মেজর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং কখনও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলে ভুয়া পরিচয় দিতেন। মালামাল পরিবহনের উদ্দেশ্যে পিকআপ, মিনি-ট্রাক ও ট্রাক ভাড়া করতেন। পরে সুবিধাজনক স্থানে ডেকে এনে চালকদের কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন কৌশলে হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যেতেন।

এএসপি সোয়েব জানান, গত ১৩ নভেম্বর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ফারুক নামে একজনকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় দেন ইলিয়াস। ঢাকা থেকে মাদারীপুরে বদলি জনিত কারণে তার বাসার মালামাল স্থানান্তর করার জন্য একটি পিকআপ ১২ হাজার টাকায় ভাড়া করেন। এরপর সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ডে শ্যামলী কাউন্টারের সামনে আসতে বলেন। ভুক্তভোগী ফারুক তার কথামতো সেখানে এলে আসামি ইলিয়াস চেক ভাঙিয়ে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে তার কাছ থেকে লেবারের মজুরির টাকা দেওয়ার কথা বলে ২৬ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

এই প্রতারকের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন থানায় ৫টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে ৩টি প্রতারণা মামলা ও দুটি মাদক মামলা। এছাড়া ভুক্তভোগী ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় আরও একটি প্রতারণার মামলা করেছেন।