৯ মাসে নির্যাতনের শিকার ৩ হাজার নারী-শিশু: গবেষণা

চলতি বছরের গত ৯ মাসে ৩ হাজার ৬৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগ।

গবেষণা থেকে জানানো হয়, এসব নির্যাতনের মধ্যে ৬৪৩ জন ধর্ষণ ও ২০৫ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩০ জনকে আর ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। বাকিরা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ হলে ‌‘নারী ও কন্যা নির্যাতন বন্ধ করি, নতুন সমাজ নির্মাণ করি’ স্লোগান ধারণ করে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ (২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর) ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস ২০২২ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনটি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ফারজানা রহমান বলেন, ‌‘বিভিন্ন সমীক্ষা, গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বাংলাদেশে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ১৩টি জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতার চিত্র প্রতি মাসে গণমাধ্যমে তুলে ধরে। দেখা যায়, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জরিপে অংশগ্রহণকারী ৭৯ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, গত বছরে রাস্তায় পিছু নেওয়া এবং অশালীন মন্তব্যের শিকার হওয়ার মতো যৌন হয়রানির ঘটনার সম্মুখীন হয়েছেন। এতে দেখা গেছে যে নারীরা এভাবেই বেশি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ বা লাঞ্ছিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন তারা ইন্টিমেট পার্টনার দারা যৌন সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন।

রাস্তাঘাট ও পাবলিক প্লেস নিরাপদ নয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘৩৮৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ১৭৭ জন বলেছেন, তারা এসব স্থানে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন।’

রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার— এই তিনটি প্রতিষ্ঠানই দর্ষণের অবদানকারী শক্তি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আর্থসামাজিক পটভূমি এবং অপরাধীদের পারিবারিক অবস্থা, অপরাধীদের অতীতে অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং উপযুক্ত শাস্তির অনুপস্থিতির কারণে তরুণরা যৌন সহিংসতায় সম্পৃক্ত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু প্রমুখ।