বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সংবিধান সংস্কার অনিবার্য

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট থেকে উত্তরণে সংবিধান (সংস্কার) সভার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার করা অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সমাজ। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সংবিধান সংস্কার করবে কারা: জাতীয় সংসদ নাকি সংবিধান (সংস্কার) সভা?’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

‘সমকাল’ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান বলেন, ‘সংশোধনীর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। গণপরিষদ আর জাতীয় সংসদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। বাহাত্তরের সংবিধানের অনেক স্পিরিটের আবেদন এখনও ফুরিয়ে যায়নি।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও লেখক ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে সংকটকে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। অবশ্যই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এর কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে হবে, তা আরও ভাবতে হবে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘এ মুহূর্তে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে সংবিধান (সংস্কার) সভায় যাওয়ার কোনও বিকল্প নেই। একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের আবেগ, অনুভূতি ও মর্যাদাকে ধারণ করে এমন গণতান্ত্রিক শক্তিদের সমন্বয়ে সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কার আশু জরুরি।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘সামরিক অভ্যুত্থানের পর ত্রয়োদশ সংশোধনী দেশকে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল করেছে। আমাদের নাগরিক সত্তাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে, সাংবিধানিকভাবে যে জমিদারি প্রথা বলবৎ আছে, তা বদলানো জরুরি। কাজেই রাষ্ট্র হতে গেলে আমাদের রাষ্ট্র নিয়ে চিন্তা শুরু করতেই হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা মনে করি সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোগত পরিবর্তনে সংবিধান (সংস্কার) সভা গঠনের নির্বাচন করতে হবে। এটা গুটি কয়েক বোদ্ধার বিষয় নয়, সমগ্র জনগণের বিষয়। তাই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে এই বিতর্ক নিয়ে যেতে চাই। আমাদের আকাঙ্ক্ষা এ বিতর্ক জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হোক এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সূত্র বের হয়ে আসুক।’

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য আর রাজী। তিনি  বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মূলত শাসনতান্ত্রিক তথা সাংবিধানিক সংকট। এই সংকট এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে যার সমাধান কেবল দলবদল বা সরকার বদলের প্রচলিত রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আশার কথা হচ্ছে, এই বাংলাদেশের নানা মহলে এখন রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে একধরনের ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই সংস্কার হবে, সেই প্রশ্নে অস্পষ্টতা কাটেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনী একটি আইনি পরিভাষা, যা ইতোমধ্যে বিদ্যমান সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার একটি রাজনৈতিক পরিভাষা। এর সীমা আদালত দ্বারা নির্ধারিত নয়, রাজনৈতিকভাবে জনগণ দ্বারা নির্ধারিত। জনগণই ঠিক করবে সংবিধানের কোন অংশ কতটা সংস্কার করতে হবে।’

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্রচিন্তার সম্পাদক হাবিবুর রহমান।