১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে পুরান ঢাকার রাস্তা ও অলিগলিতে ফুটবল খেলায় মেতেছে শিশু, যুবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পুরান ঢাকার ধোলাইখাল, কলতাবাজার, টায়ারপট্টি, ওয়ারীসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বাচ্চাদের বেলুন ফুটানো, বস্তা খেলা, দৌড়, কুইজ প্রতিযোগিতাসহ নানান রকমের খেলার আয়োজন করা হয়।
সরেজমিনে পুরান ঢাকা ঘুরে দেখা যায়, কলতাবাজারে ফুটবল টুর্নামেন্ট ছাড়াও মেয়েদের জন্য চেয়ার খেলা ও দৌড়ের আয়োজন করা হয়।
সুমাইয়া সুলতানা শিমু নামের ষষ্ঠ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের স্কুলে খেলাধুলার আয়োজন করা হয় না। এজন্য এলাকার সব বান্ধবীরা মিলে এখানে চেয়ার খেলার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। অনেক আনন্দ করেছি সবাই মিলে। প্রতিবছর বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে এমন আয়োজন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।
কলতাবাজারের বাসিন্দা মুকবুল হক বলেন, প্রতিবছর এখানে আমাদের কাউন্সিলর হাজী মোহাম্মদ সেলিমের উদ্যোগে এলাকার ছেলেমেয়েদের নিয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। এর আগের বছর শর্ট ম্যাচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এবার ফুটবল বিশ্বকাপের আমেজে পুরো এলাকা মেতেছে। তাই এবার মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। সকালে ছোট বাচ্চাদের বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা হয়েছে।
ধুপখোলার স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম বলেন, ছুটির দিনে রাস্তাঘাট একেবারেই ফাঁকা থাকে। এলাকার ছেলেরা তখন রাস্তায় ক্রিকেট ফুটবল খেলে। পাশের ধুপখোলা মাঠে সিটি করপোরেশনের কাজ চলায় এলাকার বাচ্চারা সেখানে আর খেলতে পারে না। তাই বাধ্য হয়ে সবাই রাস্তাতেই খেলাধুলা করে। তাই এলাকার মুরব্বিদের সহযোগিতায় আজ বিজয় দিবস উপলক্ষে পাড়া-মহল্লায় কয়েকটা টিম করে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সাব্বির রহমান নামের একজন বলেন, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি আর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমাদের মহল্লায় ক্রিকেট আর ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। এলাকায় পর্যাপ্ত খেলাধুলার জায়গা না থাকায় এমন উৎসবের অপেক্ষায় থাকতে হয়। আমার দল হেরেছে তবু এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি অনেক খুশি। আমাদের খেলার কারণে যদিও কিছু সময়ের জন্য রাস্তা বন্ধ ছিল কিন্তু কারো হাঁটাচলায় আমরা বিঘ্ন ঘটতে দেইনি।