বনানীতে গৃহকর্মী নির্যাতন: এখনও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ

বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির সাততলার ফ্ল্যাটে গৃহকর্মী তানিয়া বেগম নির্যাতনের ঘটনায় এখনও কোনও আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশ বলছে, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বনানী থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. আজিজুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকে আসামিরা পলাতক, তাদের ধরতে আমরা তৎপর। আসামি ধরতে এরইমধ্যে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করে এক ব্যক্তি জানান, বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের একটি বাড়ির সাততলার ফ্ল্যাটে একজনকে নির্যাতন করা হচ্ছে। বেলা সোয়া দুইটার দিকে ওই ফ্ল্যাটে গিয়ে পুলিশ দেখে, একজনের মুখ স্কচটেপ দিয়ে বাঁধা। মাথার চুল ও ভ্রু ছেঁটে দেওয়া হয়েছে। শরীরজুড়ে নির্যাতনের ক্ষত। মারধরে পুরো মুখমণ্ডল ফুলে গেছে। ভিকটিম তানিয়া বেগম ওই বিল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে গৃহকর্মীর কাজ করতো। তাকে উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ।

তানিয়াকে উদ্ধারের পর গৃহকর্ত্রী সামিনা আলমকে আটক করে নেওয়া হয় বনানী থানায়। তবে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় তাকে পরে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী তানিয়া বেগমের ভাই শফিকুর রহমান বলেন, আমার বোনকে যারা  নির্যাতন করেছে তারা প্রভাবশালী। মামলা করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করা কঠিন। এছাড়া মামলার খরচ জোগানোর সক্ষমতা নেই আমাদের। এ কারণে মামলা করিনি। তবে আমাদের পক্ষে হয়ে কেউ এগিয়ে এলে, রাষ্ট্র বা কোনও সংস্থার সহযোগিতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে গত শুক্রবার ২৩ ডিসেম্বর) সেই গৃহকর্ত্রী সামিনা আলম এবং তার স্বামী কামরুজ্জামানকে আসামি করে নারী ও শিশু আইনে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করে।