পদ্মা সেতু, মেট্রোরেলের মতো দৃশ্যমান অবকাঠামোর উন্নয়নের বছর ছিল ২০২২। এবছরই ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতে দুর্বৃত্তায়ন অর্থনীতির গতিকে শ্লথ করেছে৷ এই অবস্থায় নির্বাচনি বছর ২০২৩ সালে কতটা স্থিতিশীলতা থাকবে অর্থনীতির—তা নিয়ে সংশয় বিশ্লেষকদের। তারা বলেন, 'সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে এমন উদ্যোগ নিতে হবে।'
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর ঢাকা গ্যালারিতে এডিটরস গিল্ড আয়োজিত '২০২২ কেমন গেলো, কেমন হবে ২০২৩' শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় তারা এ কথা বলেন।
গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা বলেন, 'মানুষের জন্য যে রাজনীতি সেখান থেকে সরে এসেছেন নীতি-নির্ধারকরা। তাই ২০২৩ নির্বাচনি বছর বলে সবকিছু বুঝে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
তারা মনে করেন, 'অর্থনীতি ও রাজনীতির সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকরী উদ্যোগ নিলে সবাই উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারবে।'
আলোচনা সভায় অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, যেকোনও সংকটের সময় সব দেশেই কিন্তু অর্থনীতির দিকে চোখ রাখে। এটা নিয়ে তারা মাথা ঘামায়, বিশেষ করে ভাবতে হয় যখন অর্থনীতি টালমাটাল অবস্থায় দাঁড়ায়। সেদিক দিয়ে আমরা ব্যতিক্রম কিছু নই। রাজনীতি অর্থনীতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনীতিকে বাদ দিয়ে বর্তমান বিশ্বে রাজনীতি শুধু বন্দুক দিয়ে হবে না। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে, তাদের আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করতে হবে। সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনকে বিবেচনায় রেখে অর্থনীতিকে খুব দ্রুত কীভাবে একটা জায়গায় স্থির রাখা যায়—তা সরকারকে ভাবতে হবে। এসব কিছু মিলে আমাদের টানাপোড়েন থাকবে আগামী বছরে। এইটা নিয়েই চলতে হবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হবে। তার জন্য নাগরিকদের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে৷ যারা সমাজকর্মী, যারা সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, সাংবাদিক অনেকেই আজকে সোচ্চার হচ্ছেন, আজকে তারা প্রতিবাদী হওয়ার চেষ্টা করছেন৷
অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, '২০২২ সালে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ভালো অবস্থানে ছিলাম বলে মনে হয় না, ২০২৩-এও যে ভালো থাকবো তাও মনে হচ্ছে না। অতীত বছরের বিষয়গুলো যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে ২০২৩-ও ভালো যাবে না।'
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব ও এসডিজি বিষয়ক সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০২২ সালটি বিশ্ব বিবেচনায় দেখতে হবে। কোভিড পরবর্তী সময়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, পৃথিবীর বহু দেশ নেগেটিভ গ্রোথ করেছে, অনেক দেশ অর্থনৈতিক অবস্থায় খুব খারাপ দিকে গিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রগতিটা বিবেচনায় রাখতে হবে।
সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ও আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান বলেন, 'আওয়ামী লীগের জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা আছে আবার নেই-ও। নেই এই অর্থে তারা জনগণের জন্য কোনও কাজ করে না, মাঝেমধ্যে জনগণের হয়ে কিছু লবি করে এইটাও সত্য।'
জ্যেষ্ঠ ব্যাংকার ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার বলেন, ২০২২ সাল থেকেই বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে একটা অস্থির অবস্থা রয়েছে। বরং আমি বলবো অর্থনৈতিকভাবে এটা ২০২১ থেকে শুরু হয়েছিল। ব্যাংকিং কমিশন গঠন হলে তখন কিছু অভিযোগ দেওয়া এবং সমস্যার সমাধান হতে পারে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত।