ঢাবির টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৯ জনের সাত বছর কারাদণ্ড

জাল বিল ও জাল চেকের মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ম্যানেজার ও অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার মো. জাকারিয়া হোসেনসহ ৯ জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আদালত চার জনকে বেকসুর খালাস দেন।

মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭-এ এই রায় দেওয়া হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আরিফ সাদেক জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার মো. আনোয়ার হোসাইন বাদী হয়ে ২০০৩ সালের ১৫ জুলাই রমনা থানায় মামলা (নং-৫১) দায়ের করেছিলেন। প্রথমে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ ও পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদককে মামলার দায়িত্ব দেওয়ার পর এর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় সাবেক সহকারী পরিচালক ও বর্তমানে উপ পরিচালক মো. ফজলুল হককে। তদন্ত শেষ তিনি ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০৯ সালের ৯ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ৯ জনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও চার জনকে বেকসুর খালাস দেন আদালত। একইসঙ্গে আত্মসাৎ করা ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৬২ টাকা জরিমানা করে রাস্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন— ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের লামকাইনের দক্ষিণ হারিনা গ্রামের সামছুদ্দিন আহমেদের ছেলে সফিউল আলম ওরফে সাইফুল আলম ওরফে সজীব ওরফে সফিকুল ইসলাম। সোনালী ব্যাংকের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক ম্যানেজার  মো. জাকারিয়া হোসেন, একই শাখার কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. আবদুস সামাদ, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার কে এ এস এম ফয়জুল্লা, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মালিকা খুরশীদ বানু এবং ব্যাংকের সাবেক গোডাউন চৌকিদার মো. জামাল উদ্দিন বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগদ শাখার (ক্যাশ সরকার) অরুণ চন্দ্র কর্মকার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী দফতরের বিদ্যুৎ শাখার উচ্চমান সহকারী মো. ফাহিম হোসেন খান।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন— সোনালী ব্যাংকের সাবেক গোডাউন চৌকিদার সালেহ আহমেদ, চা বিক্রেতা জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদার মো. জামিল উদ্দিন আহমেদ ও ঠিকাদার এম এ আবদুল্লাহ।