শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম। শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিত নতুন শিক্ষাক্রমে জেন্ডার, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি আহ্বান জানান।

এশিয়ান সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ এডুকেশন (এসিআইই), বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজি এই সেমিনারে জাতীয় শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন কোর কমিটি এবং এশিয়ান সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ এডুকেশন (এসিআইই) সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিটিবির শিক্ষাক্রম কমিটির সদস্য অধ্যাপক এম মশিউজ্জামান, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হালিম।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্ট্রাল ও নর্দান রিজিয়ন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে প্রোগ্রাম প্রধান  মো. আশিক বিল্লাহ, ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটির (ভিপস) সভাপতি নাসরিন জাহান। সেমিনারের সহ- আয়োজক ছিল প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটি (ভিপস)।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তায় নির্দিষ্ট সময়ে এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং তাদের যেকোনও উদ্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে।

সেমিনারে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এবং ভিজুয়ালি ইম্পেয়ার্ড পিপলস সোসাইটির (ভিপস) পক্ষ থেকে দুটি আলাদা প্রেজেন্টেশন পরিবেশন করা হয়েছে। সংস্থা দুটি তাদের নানা কার্যক্রম ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে বিশেষ করে জেন্ডার, ইক্যুইটি ও ইনক্লুশন বিষয়ক উদ্যোগগুলো তারা অব্যাহত রাখবে এবং সরকারের বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কোলাবোরেশনের মাধ্যমে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

সেমিনারের দুটি থিম পেপার উপস্থাপনা করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. এম তারিক আহসান ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ২০২১-এর আলোকে অভিজ্ঞতা ভিত্তিক শিখন ও মূল্যায়ন’ বিষয়ে একটি ও ইকবাল হোসেন, কার্যকরী সদস্য, এসিআইই ‘জেন্ডার ইনক্লুসিভ পেডাগোজি ও শিক্ষকের ভূমিকা’ বিষয়ে একটি থিম পেপার উপস্থাপন করেছেন।

অধ্যাপক এম তারিক, নতুন শিক্ষাক্রম সম্পর্কে সব পর্যায়ের শিক্ষক, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা প্রত্যাশা করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জন বিষয়ক কোর কমিটি শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় নিবিড়ভাবে সংযুক্ত থাকবেন। দেশব্যাপী তাদের মনিটরিং কার্যক্রম চলমান থাকবে।

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্যাক্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি মনসুর আহমেদ চৌধুরী, এনসিটিবির শিক্ষাক্রম সদস্য অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর  অধ্যাপক আহসান হাবীব ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সেন্ট্রাল ও নর্দান রিজিয়নের প্রোগ্রাম প্রধান মো. আশিক বিল্লাহ।

প্যানেল আলোচকরা নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে জেন্ডার ইনক্লুসিভ প্যাডাগজি অনুসরণের ওপর বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলোকে শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন।