রাজধানীর শাহবাগে দুর্ঘটনার পর গাড়ির নিচে আটকে যাওয়া নারীকে ছেঁচড়ে এক প্রায় কিলোমিটার টেনে নিয়ে যাওয়া সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২২ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আদালত।
সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান নুর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন এ দিন ধার্য করেন।
আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে এ ঘটনায় গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে নিহত রুবিনা আক্তারের ভাই জাকির হোসেন বাদী হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহার জাফর শাহের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা করেন।
প্রায় একমাস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে গত ১ জানুয়ারি মামলার আসামি জাফরকে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক জাফর। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এদিকে, কারাগারে থাকা অবস্থায় সম্প্রতি তিনি মারা যান। তবে বিষয়টি এখনও আদালতকে অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
গত বছরের ২ ডিসেম্বর দেবর নুরুল আমিনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে রুবিনা আক্তার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসা থেকে হাজারীবাগে বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বিপরীতে টিএসসি অভিমুখী সড়কে একটি প্রাইভেট কার পেছন থেকে তাদের ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে প্রাইভেট কারের নিচে আকটে যান। সেই অবস্থা তাকে টেনে-হিঁচড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা হয়ে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত নিয়ে যান সেই শিক্ষক।
ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ৪টা ৪০মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত রুবিনা আক্তার রাজধানীর তেজগাঁওয়ের বাসিন্দা।