রাজধানীর সিদ্দিকবাজারে একটি ভবনে বিস্ফোরণের পর থেকেই পুরান ঢাকায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে গণপরিবহন। এতে পথচারীরা পড়েছে দুর্ভোগে। এই সুযোগে কয়েকগুণ ভাড়া হাঁকছে রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলগুলো। ফলে ভোগান্তি আরও বেড়েছে সাধারণ জনগণের।
মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিস্ফোরণের পর গুলিস্তান এলাকায় সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে বিস্ফোরণে সাভার পরিবহনের একটি বাসের ৩৫ জন যাত্রী আহত ও চালকের সহকারী নিহত হয়।
একরামুল করিম নামের একজন যাত্রী বলেন, ‘লঞ্চে চাঁদপুর থেকে এসেছি। সাভার যাওয়ার জন্য বিকেল থেকেই এখানে দাঁড়িয়ে আছি। কোনও ধরনের গণপরিবহন চলছে না। সিএনজি অটোতে ৬০০ টাকা ভাড়া চেয়েছে। সঙ্গে কিছু মালামাল থাকায় বাধ্য হয়ে সিএনজি নিতে হচ্ছে। শুনেছি গুলিস্তানে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ জন্য বাস চলাচল বন্ধ। এই সুযোগে সিএনজি ও মোটরসাইকেল চালকরা সাধারণ মানুষের গলায় পাড়া দিয়ে ভাড়া আদায় করছে।’
তৌহিদ নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘সদরঘাট থেকে উত্তর বাড্ডা ভাড়া ২৫ টাকা। যানবাহন চলাচল না করার কারণে ভেবেছিলাম মোটরসাইকেল যাবো। কিন্তু এখান থেকে উত্তর বাড্ডা মোটরসাইকেল ৩৫০ টাকা চাচ্ছে। প্রায় তিনঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি। যাওয়ার কোনও উপায় দেখছি না।’
রায়সাহেব বাজার মোড়ে শিশুকে কোলে নিয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন সাবেরা খাতুন। তিনি বলেন, ‘অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু কোনও বাস পাচ্ছি না। আজ শান্তিনগর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মেয়েকে ডাক্তার দেখানোর কথা। বাস না থাকায় সিএনজি আর রিকশাচালকরা অনেক বেশি ভাড়া চাচ্ছে। সিএনজি ৩০০ টাকার কমে যাবেই না। রিকশাও ২০০ টাকা ভাড়া চাচ্ছে। অথচ এখান থেকে শান্তিনগর মোড়ে ভাড়া মাত্র ১৫ টাকা। রিকশাচালকরা অনেকটা জিম্মি করে আমাদের থেকে টাকা নিচ্ছে।’
জানতে চাইলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে অস্বীকার করছেন রিকশা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলচালকরা। তারা বলছেন তাদের মধ্যে মনুষ্যত্ব আছে।
সিএনজি অটোচালক শাহিন বলেন, ‘ভাড়া যা তা-ই নিচ্ছি। এক টাকাও বেশি নিচ্ছি না। আমাদের ভেতরে মনুষ্যত্ব বলে কিছু আছে। মানুষ হুদাই মিথ্যা কথা বলতাছে।’
রিকশাচালক রিপন বলেন, ‘গুলিস্তানের ওপর দিয়ে যাওয়া যাবে না। আমাদের ভেতর দিয়ে অনেক দূর ঘুরে যাওয়া লাগবে। এ জন্য একটু বেশি আবদার করছি।’
মোটরসাইকেলে চালক মনসুর আহমদ বলেন, ‘এমনিতেই তেলের দাম আকাশচুম্বী। অনেক ঘোরাঘুরি করে নিতে হবে। তেল বেশি যাবে, তাই ভাড়া একটু বেশি চাইছি। এটা দোষের কিছু না। আমাদেরও তো খেয়েপরে বাঁচতে হবে।’