ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজ ধরার অভিযান জোরদার করবে দুদক

ফাঁদ পেতে দুর্নীতিবাজ ধরার অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে তারা বেশ কয়েকটি ফাঁদ পেতে অভিযান চালিয়ে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে একাধিক সরকারি কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে। একইসঙ্গে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ের নিজ অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদক সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) শরীয়তপুরের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ঘুষের ৫০ হাজার টাকাসহ উপ-ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে ৪ এপ্রিল রাজশাহীতে উপ-কর কমিশনার মহিবুল ইসলাম ভুঁইয়াকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আটক করে দুদক। ফাঁদ পেতে এমন অভিযান এ বছর আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

দুদক সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশে এক শ্রেণির প্রতারক দুদকের কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতারকচক্র দুদকের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া পরিচয় দিয়ে সশরীরে, টেলিফোনে কিংবা মোবাইলে ফোন করে দুদকের অভিযোগ দায়ের হয়েছে মর্মে নিষ্পত্তির জন্য অর্থ দাবি করে যোগাযোগ করতে বলা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দুদকের কর্মকর্তাদের সই জাল করে ভুয়া নোটিশ প্রদান ও অবৈধ তদবির করা হচ্ছে মর্মে প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করাসহ দুদকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, দুদক কারও বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত শুরু করলে চিঠি দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানো হয়। ফোনে যোগাযোগ করার আইনগত কোনও বিধান নেই। তাই এমন কোনও তথ্য পেলে দুদকের হটলাইন- ১০৬ অথবা দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল: ০১৭১১৬৮৮৬৪২) বা দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ আরিফ সাদেকের (মোবাইল: ০১৭১১-৫৭৩৮৭৪) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনে নিকটস্থ দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ে কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিতেও পরামর্শ দেওয়া হয়।