মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে সঠিকভাবে পর্যালোচনার আহ্বান

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ বিশেষত তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না, যা একটি বড় দুর্বলতা। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসকে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারত ও বাংলাদেশের খ্যাতিমান রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ এবং শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সন্তানসহ দেশ- বিদেশের স্বনামধন্য আলোচকরা।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স (বিলিয়া) আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র: ১০ এপ্রিল ১৯৭১ এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম’ শীর্ষক দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বক্তারা ১০ এপ্রিলকে ‘রিপাবলিক ডে’ ঘোষণার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সিনিয়র সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, ‘আমাদের একটি বড় দুর্বলতা হচ্ছে— আমরা আমাদের গৌরবময় ইতিহাসকে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে পারিনি। আমাদের অসংখ্য মানুষ, বিশেষত তরুণ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে তেমন কিছুই জানেন না।’

১০ এপ্রিলকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিকে জাতীয়ভাবে প্রত্যাখ্যান করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন সাংবাদিক আবেদ খান।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবিব বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সম্পর্কিত বিস্তৃত আলোচনা জনসম্মুখে তুলে আনার উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী।’

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, স্বাধীনতার ৫২ বছর পরেও বাংলাদেশ আসলে শত্রুমুক্ত হয়েছে কিনা, তা বিশেষভাবে ভেবে দেখা দরকার। কেননা, বাংলাদেশের জন্মের অন্যতম ভিত্তি ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা। অথচ স্বাধীনতার ৫২ বছর পার হলেও আমরা সেই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারিনি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি এএইচএম শামছুদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘১৯৭১ সালের পরের প্রজন্ম বা নতুন প্রজন্মের অনেকেই জানেন না স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কী, অনেকেই আবার ভুলভাবে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক মনে করেন।’

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রকে বাঙালি জাতির জন্মসনদ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম আইন, এই আইনের মাধ্যমে আগের আইনগুলোর ধারাবাহিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতার সন্তান, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র হচ্ছে বাংলাদেশের ফাউন্ডেশনাল প্রিন্সিপল।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি এখনও পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।’

শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনির চৌধুরীর সন্তান, প্রজন্ম '৭১ এর সভাপতি আসিফ মুনির বলেন, ‘বিশ্বের কোনও দেশে সাধারণত ইতিহাসকে রাজনীতিকরণ করা হয় না। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস এখনও পর্যন্ত নির্মোহভাবে রচিত হয়নি।’

অধ্যাপক ড. নুজহাত চৌধুরী বলেন, ‘নারীর প্রতি যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শন করতে হলে তাদের বিষয়ে চলমান নেতিবাচক মনোভাব ও সমালোচনা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ যদি মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যথাযথভাবে জানতো, তাহলে বাণিজ্যমেলায় পাকিস্তানি পণ্য কেনার জন্য এতটা ভিড় হতো না।

বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, ‘আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, তথা যে অসাম্প্রদায়িক মনোভাব এবং সামাজিক সাম্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বাধীনতার সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল, তা তুলে ধরতে হবে।’